ভোটের মুখে নববর্ষ এই প্রথম নয়। কালবৈশাখির আবহে বাংলার বিধানসভা ভোট হয়েছে অসংখ্যবার। কিন্তু, বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা এবারের মতো কখনও পুরোদস্তুর রাজনৈতিক হয়ে ওঠেনি। নরেন্দ্র মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্...
ভোটের মুখে নববর্ষ এই প্রথম নয়। কালবৈশাখির আবহে বাংলার বিধানসভা ভোট হয়েছে অসংখ্যবার। কিন্তু, বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা এবারের মতো কখনও পুরোদস্তুর রাজনৈতিক হয়ে ওঠেনি।
নরেন্দ্র মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা যেন রাজনৈতিক-আক্রমণের হালখাতা হয়ে উঠল এদিন।
নরেন্দ্র মোদীর খোলা চিঠি
"বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গবাসী অপশাসন, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির শিকার। ... আজ যখন আমি পশ্চিমবঙ্গবাসীর দুঃখ এবং বেদনা দেখি, তখন আমার মন ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত হয়। বর্তমান রাজ্য সরকার যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, তার ফলে মা-বোনেদের নিরাপত্তা, যুব সমাজের কর্মসংস্থান এবং গরীব মানুষের অধিকার থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসী আজ বঞ্চিত। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র দেশের সঙ্গে উন্নয়নের পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে 'বিকশিত ভারত'-এর পথ প্রদর্শক হয়ে উঠবে। এই আসন্ন নির্বাচন কেবল একটা সাধারণ নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ তথা প্রকৃত পরিবর্তন আনয়নের এক সুবর্ণ সুযোগ। আমি দৃঢ় বিশ্বাসী ও আস্থাবান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আমার উপর ভরসা রেখে আমাদের এক ঐতিহাসিক জয় উপহার দেবেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন"।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিয়ো-বার্তা
"শুভ নববর্ষে সকলকে শুভনন্দন জানাচ্ছি। সবাইকে অনেক-অনেক নমস্কার। ভালো থাকবেন সকলে। বাংলার একটা ঐতিহ্য, বাংলার একটা গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। এবং সাথে-সাথে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ। আমি সকলকে বলবো, বাংলার সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান। বাংলার সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান। সংহতির পীঠস্থান। আপনারা দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও ১০৫ টা সোশাল স্কিম করেছি, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সব মানুষের জন্য। দিল্লির জমিদাররা অনেক অত্যাচার করছে। ভোট কাটছে। অনধিকার প্রয়োগ করছে। বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার ওপর জুলুম ও অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনার একটা ভোট দয়া করে দিন। আমি নিজে এখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে, ৩২ লক্ষ বাদ দেওয়া নামকে (ভোটার তালিকায়) তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছে, আজ না-হোক কাল, তাঁদের নামও নিশ্চয় উঠবে। যেহেতু ট্রাইবুনাল চলছে। নির্বাচন হচ্ছে মানুষের উৎসব, ভোটের উৎসব। সেই দিন আপনার ভোটটি দয়া করে, এবার আর অন্য কোনও প্রার্থীকে দেবেন না, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেবেন। যে যেখানেই প্রার্থী হোন-না কেন, ২৯৪ টা কেন্দ্রে। যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান, তাহলে আমার প্রত্যেকটা প্রার্থীকে দয়া করে, কোনও কুৎসা অপপ্রচারে কান না-দিয়ে, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেবেন। সকাল-সকাল ভোট দেবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। আর ভোটের অধিকার রক্ষা করবেন। জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম, জয় বাংলা"।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট
"বাংলাকে দুর্বল করতে বারংবার চেষ্টা চলছে। বাংলার বদনাম করা হচ্ছে। মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে মস্করা করা হচ্ছে। কী খাওয়া যাবে আর কী খাওয়া যাবে না, তা ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মনীষীদের অপমান করা হচ্ছে। কিন্তু ওরা বাংলাকে চেনে না। আমরা ভেঙে পড়বো না। আমরা মাথানত করবো না। আমরা ভালোভাবেই বেঁচে থাকবো"।