আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা ভোট। এবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে নির্বাচনের জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিমব...
আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা ভোট। এবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে নির্বাচনের জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসও। সম্প্রতি রাজ্য পুলিসের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার পুলিস সুপার (SP) এবং কমিশনারদের (CP) এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল দিকগুলিঃ
বুথের স্পর্শকাতরতার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বুথ বিশিষ্ট স্বাভাবিক ভোটকেন্দ্রে ০.৫০ সেকশন এবং স্পর্শকাতর কেন্দ্রে ০.৭৫ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
বাহিনীর বিন্যাস:
প্রথম দফায় মূলত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে। দার্জিলিং জেলায় ৬১ কোম্পানি, শিলিগুড়িতে ৪৪ কোম্পানি, কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ার ৭৭ কোম্পানি, এবং জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি। এছাড়াও পুরুলিয়ায় ১৫১ কোম্পানি, বীরভূম ১৭৬ কোম্পানি, বাঁকুড়া ১৯৩ কোম্পানি, মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলায় ২৪০ কোম্পানি, পূর্ব মেদিনীপুর ২৭৩ কোম্পানি, পশ্চিম মেদিনীপুর ২৭১ কোম্পানি এবং মালদহে ১৭২ কোম্পানি, জঙ্গিপুর পুলিস জেলায় ৭৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজ্য পুলিসের ভূমিকা:
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিসও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে। কুইক রেসপন্স টিম (QRT), সেক্টর মোবাইল এবং নাকা চেকিংয়ের জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড এবং এনভিএফ (NVF) কর্মীদেরও ব্যবহার করা হবে।
কর্মকর্তাদের গতিবিধি:
প্রতিটি জেলা বা ইউনিটকে রাজ্য বাহিনীর চলাচলের জন্য একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। বাইরের জেলা থেকে আসা পুলিস কর্মীদের ১৮ই এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে নির্দিষ্ট জেলায় পৌঁছে যেতে হবে।
উল্লেখ্য,নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বা যারা নির্দিষ্ট কিছু কারণে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ, তাদের মোতায়েনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলা হবে। এছাড়া, ভোটের কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিক ও পুলিস কর্মীদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র, হেলমেট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বহন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রথম দফার এই নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়, তা নিশ্চিত করা। এর জন্য জেলা পুলিস সুপারদের সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত নিরাপত্তা মানচিত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে।