সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়-কমিশন মোট ৪৪ জনকে ডেকেছিল কমিশন। প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব এন কৃষ্ণমূর্তি, স্বরাষ্ট্রসবিচ মণীষ গুপ্ত, কলকাতার পুলিস কমিশনার তুষার তালুকদার, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের অন্যতম। যদিও, একুশে জুলাই গুলিচালনায় সবচেয়ে বড় সাক্ষী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ডাকা হয়নি!
একুশে জুলাই কী ঘটেছিল? রহস্যাবৃত সেই ফাইল আজই প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বামজমানায়, ১৯৯৩ সালে মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি ছিল, সচিত্র ভোটার কার্ড। যদিও, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষন ইতিমধ্যেই তা ভাবতে শুরু করেছিলেন। এমতাবস্থায়, কমিশন কী করবে-না-করবে, মহাকরণ থেকে রাজ্য সরকার তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কী করে, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এদিকে, ওই অভিযানের দিন পুলিসের গুলিতে ১৩ জন নিহত হন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে তখন জ্যোতি বসু। এবং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
২০১১ সালে বাংলায় পালাবদলের পর বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের তরফে ডাকা হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। তিনি মাথা উঁচু করে কমিশনে গিয়ে তাঁর যা বলার তা স্পষ্ট বলেছিলেন।
যদিও, সবকিছু সত্ত্বেও সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়-কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেননি মমতা। কেন আনেননি, কী রহস্য লুকনো ছিল সেই রিপোর্টে, তা আজও অজানা রয়ে গেছে। সম্প্রতি বাংলায় পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকারের জমানায় এই প্রথম একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন করতে চলেছে তৃণমূলের একাধিক শিবির।
এমতাবস্থায়, এদিন বিকেলেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে বিধানসভায় এসে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে তিনি আবেদন করেন, ‘‘বিকেলে ১০ মিনিট সময় নেব, ২১ জুলাই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পড়ে শোনাব। আগের সরকার কমিশন তৈরি করলেও তার রিপোর্ট কোনওদিন প্রকাশ করেনি। রিপোর্টে কী আছে, সেটা পড়ে শোনাব আজ।''
সেই মতো, বিকেলে বিধানসভা থেকে সেই বিস্ফোরক-রিপোর্ট প্রকাশ করলেন এবং রিপোর্টের মূল বিষয় কী, তা-ও সংক্ষেপে বললেন।
সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, সাক্ষ্য প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসবিচ মণীশ গুপ্তই ওই নিধন-যজ্ঞের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। যিনি বাংলায় পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার বিদ্যুৎ মন্ত্রী হয়েছিলেন। মণীশকে বাঁচাতে মরিয়া ছিলেন মমতা, তা-ই সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। এবং, তিনি নিজেও কমিশনে সাক্ষ্য দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাইলি সাসপিসাশ!