ট্যাব কেলেঙ্কারির আদলে এবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগ। প্রকল্পে উপভোক্তাদের নাম রয়েছে কিন্তু বদলে ফেলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আধার নম্বর! ফলে একজনের টাকা চলে যাচ্ছে অন্যজনের অ্য়াকা...
ট্যাব কেলেঙ্কারির আদলে এবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগ। প্রকল্পে উপভোক্তাদের নাম রয়েছে কিন্তু বদলে ফেলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আধার নম্বর! ফলে একজনের টাকা চলে যাচ্ছে অন্যজনের অ্য়াকাউন্টে। বিস্ফোরক এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই চাপের মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসন। এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে উপভোক্তাদের। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে নিশানা করে আসরে নেমেছে বিজেপি।
জানা যাচ্ছে, এটি মালদা জেলার ইংলিশবাজার ব্লকের যদুপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ যদুপুরের বাসিন্দা মহম্মদ তৌসিফ। তিনি জানান, কিছুদিন আগেই মা রুখসেনা বিবির নামে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের ঘর এসেছিল। অভিযোগ সেই ফর্মে তাঁর মা, বাবার নাম ঠিকঠাক থাকলেও বদলে ফেলা হয়েছে ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্টের নম্বর। ফলে অন্যান্য উপভোক্তাদের এই প্রকল্পের টাকা ঢুকলেও বঞ্চিত হন তাঁরা। পরে এই বিষয়ে ব্যাঙ্কে যেতেই সামনে আসে জালিয়াতির ঘটনা। জানা যায় অন্য একাউন্টে এই প্রকল্পের এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে।
এরপরেই বিষয়টি তাঁরা লিখিত আকারে পঞ্চায়েত দফতর, মালদা জেলা প্রশাসন এবং ব্লক প্রশাসনকে জানায়। এই বিষয়ে তৌসিফ আরও জানান, গত জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনিও ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁর বাবা আলিম শেখ তিনি লেবারের কাজ করেন। বাড়িতে তিন বোন রয়েছে। তাই এই সরকারি প্রকল্পের বাড়ি তাঁদের অত্যন্ত জরুরু।
এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নমিতা চৌধুরীর স্বামী দয়াল কৃষ্ণ চৌধুরী জানান, 'আমরা বিষয়টি জানতে পারার পর বিডিও-কে জানাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে যে অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো ঢুকেছে সেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।' অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে নিশানায় নিয়েছে বিজেপিও। মালদা দক্ষিণের বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকায় তৃণমূল কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। এমনকি জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানালেও কোন সুরাহা হয় না বলেও জানিয়েছেন তিনি।