শাসকের চোখে চোখ রেখেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কিঞ্জল-দেবাশিস-অনিকেতের নেতৃত্বাধীন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। যাদের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ আন্দোলন তাঁরাই এবার পাল্টা মঞ্চ তৈরি করলেন। তাহলে কি অস্তিত্ব সংকটে প...
শাসকের চোখে চোখ রেখেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কিঞ্জল-দেবাশিস-অনিকেতের নেতৃত্বাধীন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। যাদের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ আন্দোলন তাঁরাই এবার পাল্টা মঞ্চ তৈরি করলেন। তাহলে কি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে প্রতিবাদীরা। পরোক্ষে নয়া সংগঠন শাসকের মদত পেলে, কিভাবে লড়াই চালাবে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট।
কাদম্বিনীর মৃত্যুর পর উত্তাল হয় শহর। সতীর্থের ধর্ষণ খুনের প্রতিবাদে আন্দোলনে এগিয়ে আসেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। গঠিত হয় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। তাঁদের সমর্থনে ভিড় জমান চিকিৎসক থেকে সমাজের নানা স্তরের মানুষ। শাসকের চোখে চোখ রেখেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কিঞ্জল-দেবাশিস-অনিকেতের নেতৃত্বাধীন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। যাদের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ আন্দোলন তাঁরাই এবার পাল্টা মঞ্চ তৈরি করলেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠকও করলেন তৎকালীন আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ, আশিস পান্ডে ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকেরা। তাঁদের মুখেও থ্রেট কালচারের অভিযোগ। তারাই নাকি থ্রেট কালচারে বিদ্ধ।
যাদের বিরুদ্ধেই এতো দিন সুর চড়িয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। যাদের মাথারা তথ্য লোপাট সহ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীঘরে। তাঁদের মুখেই এখন থ্রেট কালচারে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য। আর এখানেই, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নবান্নে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে। কারণ এই সমস্ত বহিস্কৃত জুনিয়র চিকিৎসকদের হয়ে সুর সপ্তমে তুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই আদালতের নির্দেশে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ আসতেই আসরে এই চিকিৎসকেরা? কৌশলে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ দাবি করে প্রতিবাদকেই ভুন্ডুল করার কৌশল? শাসকের মদতেই কি সম্মুখ সমরে জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। আর এখানেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। পরোক্ষে নয়া সংগঠন শাসকের মদত পেলে, কিভাবে লড়াই চালাবে কিঞ্জল-দেবাশিস-কিঞ্জলেরা? সম্মুখীন হতে হবে অস্তিত্বের লড়াইয়ে? যদিও তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মানুষ বিচার করবেন। কারণ তারাই সব দেখেছেন।
কাদম্বিনীর মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালে নিরাপত্তা ও থ্রেট কালচার নিয়ে সরব ছিলেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা। শত বাধাতেও দমানো যায়নি তাদের আন্দোলন বিক্ষোভ। বরং নবান্নকেই রাস্তায় নামিয়ে এনেছিলেন তাঁরা। সরাসরি না পেয়ে এবার কৌশলে অন্য অংশকে ব্যবহার করে আন্দোলনকে দ্বিধাবিভক্ত করার চেষ্টা নয়তো? এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।