যাঁকে নিশানা করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গরাজনীতিতে মহা-বিতর্ক তৈরি করেছেন সিপিএমের যুব নেতা প্রতীক উর রহমান, দলের সেই রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অবশেষে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিলেন। সোমবার ...
যাঁকে নিশানা করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গরাজনীতিতে মহা-বিতর্ক তৈরি করেছেন সিপিএমের যুব নেতা প্রতীক উর রহমান, দলের সেই রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অবশেষে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিলেন।
সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি চিঠির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ সেই স্ক্রিনশট শেয়ার করায় মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়। সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদককে লেখা ওই চিঠির তলায় দেখা যায় প্রতীক উর রহমানের নাম ও সই: "কমরেড, আমি প্রতীক উর রহমান, পার্টির একজন সর্বক্ষণের কর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎসহ পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত আপনাকে (রাজ্য সম্পাদক) অবগত করলাম"।
একেবারে শেষ মুহূর্তে ছেঁদো যুক্তি খাড়া করে চব্বিশের লোকসভায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে বামজোটের প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকি। হাতে তখন আর বেশি সময় নেই। এমতাবস্থায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ভেদ্য দুর্গে আঘাত ও প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি হন যিনি, তাঁর নাম প্রতীক উর রহমান। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা প্রতীক পরে দলের রাজ্য কমিটির সদস্য হন। লোকসভা ভোটের দিন ডায়মন্ড হারবারে অসম লড়াইতে প্রতীকের প্রতিরোধ নজর কাড়ে। মার খেয়েও একেবারে শেষ মুহূর্ত বুথ আগলে রাখেন প্রতীক ও তাঁর সহযোদ্ধারা। প্রশ্ন, পরাজয় এক প্রকার নিশ্চিত জেনেও ডায়মন্ড হারবারের মতো লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে রাজি হলেন যে-প্রতীক, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কী-এমন মতবিরোধ হল যে, বিষয়টি পদত্যাগ পর্যন্ত পৌঁছল?
সংবাদমাধ্যমে একের-পর-এক সাক্ষাৎকারে প্রতীক মুখ খুলতে থাকেন। এবং সরাসরি নিশানা করেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। যদিও, সেলিমের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এই কদিনে। ঘটনার চারদিন পর আলিমু্দ্দিন স্ট্রিটে দলের কার্যালয় থেকে অবশেষে প্রতীক উর প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া দিয়ে সেলিম বলেন, "খুবই বেদনাদায়ক। নতুন প্রজন্মের কোনও ছেলের পিছনে দলকে অনেক বিনিয়োগ (ইনভেস্ট) করতে হয়। আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রচার, লড়াই। এরপর দল তাঁর থেকে দীর্ঘমেয়াদী ডিভিডেন্ড তোলে। জনগণ তোলে। শ্রেণি আন্দোলন তোলে। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই করেছে দল। সবার ক্ষেত্রে তা-ই করে। আমি যখন রাজ্য সম্পাদক হই, তখন এখান থেকেই বলি, আমাদের কাছে তিরিশটা তেজি ঘোড়া আছে। কয়েকবছরের সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনশো করবো। তারপর বলেছিলাম, তিনশো হয়ে গিয়েছে, এবার হাজারের দিকে যেতে হবে। সেখানে এই ধরনের একজন কর্মীকে হারানো আমার কাছে সন্তানহারানোর সমতুল্য"।