২০১৮-র পঞ্চায়েতে ভোটকর্মী রাজকুমার রায়ের কথা মনে পড়ে? যাঁর রহস্যমৃত্যু আজও রহস্যময় রয়ে গেছে!কমিশনের পদক্ষেপে ভোটাররাই শুধু নিরাপদ ভোট করছেন, তা নয়। ভোটকর্মীরা এবার অনেক নিশ্চিন্ত। ২০১৮ ও ২০২...
২০১৮-র পঞ্চায়েতে ভোটকর্মী রাজকুমার রায়ের কথা মনে পড়ে? যাঁর রহস্যমৃত্যু আজও রহস্যময় রয়ে গেছে!
কমিশনের পদক্ষেপে ভোটাররাই শুধু নিরাপদ ভোট করছেন, তা নয়। ভোটকর্মীরা এবার অনেক নিশ্চিন্ত।
২০১৮ ও ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটে ভোটকর্মীদের কী পরিস্থিতিতে ভোটের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল, গোটা রাজ্য তা দেখেছিল। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোটে রহস্যমৃত্যু হয়েছিল ভোটকর্মী রাজকুমার রায়ের। পরেরবার, ২০২৩-এর পঞ্চায়েতে, রাজনৈতিক দাপটের সামনে ভোটকর্মী এক শিক্ষক হাউ-হাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন! শুধু পঞ্চায়েত ভোটেই নয়। রাজ্যের সাধারণ নির্বাচনেও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনার আঁচ সরাসরি ভোটকর্মীদের উপর পড়েছে। এমতাবস্থায়, ভোটকর্মীদের সংগঠন বারংবার নিরাপত্তার দাবি করেছে। এমতাবস্থায়, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটকর্মীরা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন।
এদিন সল্টলেকের ডিসিআরসি শিবির থেকে ভোটকর্মী বরুণ বাগ জানালেন, "এবারে ভয়ের কিছু নেই। প্রথম দফায় দেখলাম তো, সবাই উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন। বোমাবাজি করবে যারা, তাদের তো আগেই গরাদের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছে কমিশন"।
এবারের ভোটে তফাত কী দেখছেন? উত্তরে ভোটকর্মী শুভ্রা বারিক বললেন, "তফাত তো দেখছি। সিসি ক্যামেরা, সিকিউরিটি, সবেতেই এবার তফাত। প্রথম দফার ভোটের পর অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছি। অন্যবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি কড়া কমিশন। তাই ভরসাও এবার অনেক বেশি।
নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন? প্রশ্ন শেষ হওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই উত্তর দিলেন মণিতপা বসু, "না, না, এবার একেবারেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না। প্রথম দফায় আমি নিজেই ভোট দিয়েছি। যা দেখেছি, তাতে অনেকটাই আশ্বস্ত"।
ভোটকর্মী বিদিশা ভৌমিক কর স্পষ্টই জানালেন, "নিরাপত্তা আছে, তাই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আছি। আগের চেয়ে অনেক আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা এবার। ইসিআই নেট অ্যাপ চালু হয়েছে, তার মাধ্যমে আপডেট পাওয়া যাচ্ছে, সিসিটিভির মাধ্যমে সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ আমাদের জন্যও ভালো, ভোটারদের জন্যও ভালো"।
নিরাপত্তা নিয়ে কোনও চিন্তা রয়েছে? মাঝবয়সি ভোটকর্মী শ্যামলী গুহ মুখের হাসি আর চোয়ালের পেশি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন: নাহ্, একেবারেই না।