"জন্ম থেকে মৃত্যু, প্রতিটা পর্যায়ে মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর ভরসার হাত। খাদ্যসাথীতে চাল, সবুজসাথীতে সাইকেল, কলেজে পড়লে কন্যাশ্রী, বিয়ে করলে রূপশ্রী, বিধবা হলে বিধবা ভাতা, বয়স হলে বার্ধক্য ভাতা, মরে গেলেও ...
"জন্ম থেকে মৃত্যু, প্রতিটা পর্যায়ে মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর ভরসার হাত। খাদ্যসাথীতে চাল, সবুজসাথীতে সাইকেল, কলেজে পড়লে কন্যাশ্রী, বিয়ে করলে রূপশ্রী, বিধবা হলে বিধবা ভাতা, বয়স হলে বার্ধক্য ভাতা, মরে গেলেও ২ হাজার টাকা। আমাদের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী চান কেউ অভাবে না-থাকুক। তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ", এক নিশ্বাসে বলে গেলেন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম।
রবিবার যুবসাথী প্রকল্পে (বেকারভাতা) রাজ্যজুড়ে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ লাইন দীর্ঘতর হয়েছে লাইন। কেউ-বা রাত থাকতে-থাকতেই লাইনে ইট পেতে রেখেছেন। কেউ আবার একটু বেলার দিকে এসে কয়েকহাজারের পিছনে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাসিমুখে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একুশের বিধানসভায় লক্ষ্মীর ভান্ডার যেমন গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছিল, ছাব্বিশেও তেমন খেলা ঘুরিয়ে দেবে যুবসাথী। প্রসঙ্গত, প্রথমে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বিরোধিতা করেও পরে সেই পথ দিয়েই হেঁটেছে বিরোধী দল বিজেপি। বাংলায় ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাতা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। শুধু তা-ই নয়। মধ্যপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ধাঁচে প্রকল্প ঘোষণা করে হারতে-হারতেও জিতেছে বিজেপি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও এবার বাড়ানো হয়েছে, সেই সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে বেকার ভাতা বা যুবসাথীর দেড় হাজার টাকা। রাজ্যের লক্ষ-লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতী এই যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহের জন্য জেলায়-জেলায় ভিড় করেছেন। অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে এই প্রকল্প। এমতাবস্থায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দল বিজেপি শুধুই অনুপ্রবেশ-অনুপ্রবেশ করে গতবারের মতো ৭৭ টি আসনও পাবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেকারভাতা পেতে অগস্ট অবধি অপেক্ষা করতে হবে না, এপ্রিলেই চালু হচ্ছে এই ভাতা। গত মঙ্গলবার নবান্ন থেকে আচমকাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের রাজ্য বাজেটে (কার্যত ভোট অন অ্যাকাউন্ট) এই 'যুবসাথী' প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। যে প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে দেড়হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন রাজ্যের মাধ্যমিক পাশ বেকাররা। বয়স হতে হবে চল্লিশ বছরের নিচে। কথা ছিল, চলতি বছরের অগস্ট মাস থেকে চালু হবে এই প্রকল্প। এমতাবস্থায়, এই প্রকল্পের সময় এগিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হচ্ছে, তাই ওই মাস থেকেই চালু করা হবে ওই প্রকল্প।