বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত রাজ্যের নাগরিক সমাজ। এমতাবস্থায়, গত রাতে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে অপরাধস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার স...
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে জীবন্ত অবস্থায় বস্তায় পুরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত রাজ্যের নাগরিক সমাজ। এমতাবস্থায়, গত রাতে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে অপরাধস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার সময়ে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিসের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। পাল্টা গুলি চালায় পুলিস। শেষ অবধি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় প্রভাসের।
একদিকে এই এনকাউন্টার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তখন সূর্যপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রসঙ্গত, স্থানীয়দের দাবি, নাবালিকা নিখোঁজের পর যখন পুলিস ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়, তখন তা একেবারেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। তখনই যদি গুরুত্ব দেওয়া হত, তাহলে এতবড় অঘটন এড়ানো গেলেও যেতে পারতো। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার এসপি অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় পুলিসের কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবং, রাজ্যের ডিজি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই রিপোর্ট পেশ করবেন বলেও জানান তিনি।
এমতাবস্থায়, বুধবার ফরাক্কার কংগ্রেস বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুরে যান অধীর চৌধুরী। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার বিস্ময়, “পুলিসের কাছ থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে গুলি চালাল একজন নেশাখোর! তাহলে কোনও জঙ্গি সংগঠনের কেউ হলে তো আরও বিপদ হত। পুলিসকে তো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাহলে, কী করে এমন ঘটনা ঘটে”?
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বারুইপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণপিটুনিকে যুক্ত থাকা হামলাকারীদের অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এদিন বারুইপুর থেকে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, “গণপিটুনি খুবই নিন্দনীয়। কিন্তু, সাধারণ মানুষের উপর পুলিসের জুলুম যাতে না-হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে”।