সাত কোটির উপর ভোটার আর দেড়কোটির শুনানি, সবমিলিয়ে 'রাজ'সূয় যজ্ঞ শেষ হলো শনিবার। এবং বাংলায় এসআইআর পর্ব সম্পূর্ণ হলে, শেষ পর্যন্ত এই দেড়কোটির মধ্যে কতজনের নাম চূ়ড়ান্ত তালিকায় থাকবে বা থাকবে না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও, "নির্ভীক চিত্তে, কোনও পক্ষপাত না-করে"। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কথায়, "উইদাউট ফিয়ার অ্যান্ড ফেভার"।
এমতাবস্থায় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খসড়ায় ৫৮ লাখ বাদ গিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় যোগ-বিয়োগের অঙ্কে শেষ অবধি তা কততে তে দাঁড়াবে, এখনই তার আঁচ পাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু কেন?
পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, যে-দেড় কোটির 'ভোট-ভাগ্য' সরু সুতোর উপর ঝুলে রয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রা। অর্থাৎ, রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করা উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এখন প্রশ্ন হল, এঁরা কতটা "নির্ভীক চিত্তে, কোনও পক্ষপাত না-করে" সিদ্ধান্ত নেবেন। জলে থেকে কুমীরের সঙ্গে বিবাদ বাধালে তার পরিণতি কী হতে পারে তা বিলক্ষণ জানা রয়েছে তাঁদের। এমতাবস্থায়, গণ-হারে নাম বাদ গেলে সরকারের রোষে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, কমিশনের ছাঁকনিতে যদি কোনও অবৈধ ভোটারের নাম আটকে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কপালে অশেষ দুর্ভোগ রয়েছে। কমিশন-সূত্রে খবর, পাঁচবছর পরেও যদি দেখা যায় রাজ্যের কোনও আধিকারিক অবৈধ বা মৃত ভোটারের নাম তুলেছেন, তাহলে তখনও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। অতএব, ল্যাটা চুকে যাবে না এত সহজে।
এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যের এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিকরা, যাঁরা কমিশনের অধীনে ইআরও-র ভূমিকায় কাজ করছেন, 'নির্ভীক চিত্তে, পক্ষপাত না-করে', স্নায়ুর উপর অত্যধিক চাপ সহ্য করে তাঁরা কে কতদূর কী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তার উপরই নির্ভর করবে 'বাদ পড়া'র সংখ্যা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এদিন স্পষ্টই জানিয়েছেন, কমিশনের লক্ষ্য একটাই। এবং তা হল, একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না-পড়েন, একজন অবৈধ ভোটারের নামও যেন চূড়ান্ত তালিকায় না-থাকে। আর সেই তালিকা কতটা 'ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার' হবে, তা নির্ভর করবে ইআরও-দের সিদ্ধান্তের উপরই।
খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে, কিন্ত চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছেন, এমন কেউ যদি আবেদন করতে চান, তাহলে সেই সুযোগও তাঁকে দেওয়া হবে বলে জানান মনোজ আগরওয়াল। সে ক্ষেত্রে প্রথমে ডিইও বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (পদাধিকারবলে জেলাশাসক) ও পরে সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক)-এর কাছে আবেদন করতে পারেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যদি খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে থাকে, তাহলে তিনি ফর্ম-৬ পূরণ করে আবেদন করতে পারেন কমিশনের কাছে।
পর্যবেক্ষকরা তাঁদের রসবোধের পরিচয় দিয়ে বলছেন, পরীক্ষা ভালোই হয়েছে কিন্তু মার্কশিটে লালদাগ আসবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাবে ফল প্রকাশের আগে অবধি। এবং সেই দুশ্চিন্তা যতটা কমিশনের, ঠিক তততাই বাংলার শাসক ও বিরোধী দলের।