দুবছর ধরে নিখোঁজ ২২ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম তরুণী রাখি রায়ের খোঁজে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিল আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশ দিয়েছে, পূর্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এবার সীমান...
দুবছর ধরে নিখোঁজ ২২ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম তরুণী রাখি রায়ের খোঁজে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিল আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশ দিয়েছে, পূর্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এবার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও এসএসবি -এর সহায়তা নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিসকে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের গোড়ায় জলপাইগুড়ি শহরের পাণ্ডাপাড়া এলাকার এক দুস্থ ভ্যানচালকের মেয়ে রাখি আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগের পর একদিন আলিপুরদুয়ার থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাখিকে কেউ থানায় পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল এবং তার ইচ্ছামতো জলপাইগুড়িগামী বাসে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, পরিবারের সদস্যরা পৌঁছনোর আগেই কেন ও কীভাবে বিশেষভাবে সক্ষম এক তরুণীকে একা বাসে তুলে দেওয়া হল? সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে একটি আইনি সহায়তা সংগঠনের আইনজীবীরা। রাখির বাবা-মায়ের অনুমতিতে বিষয়টি হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে তোলা হয়। মামলাটি ২০২৪ সাল থেকেই বিচারাধীন। মামলার আইনজীবী অতীন্দ্র চৌধুরী জানান, “আদালতের মূল লক্ষ্য নিখোঁজ তরুণীকে উদ্ধার করা। তাই SIT-কে আরও বেশি ক্ষমতা দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আট সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।” উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে মানবপাচার ও সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অতীতেও উঠেছে, এই প্রেক্ষাপটেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
দুবছর ধরে মেয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন বাবা অনিল রায় ও তাঁর স্ত্রী। চোখে-মুখে অসহায়তা স্পষ্ট। অনিলবাবুর কথায়, “কি যে যন্ত্রণা, বলে বোঝাতে পারব না। কোর্ট নতুন করে নির্দেশ দিয়েছেন, আশা করছি মেয়েকে ফিরে পাব।” আদালতের কড়া নির্দেশে তদন্তে গতি আসবে বলেই আশা পরিবার ও এলাকাবাসীর। এখন দেখার আট সপ্তাহের মধ্যে SIT বিএসএফ ও এসএসবি -এর সহায়তা নিয়ে তদন্তে কী অগ্রগতি আনে। এবং রাখির খোঁজে নতুন কোনও সূত্র মেলে কি না।