খিদে ক্রমশ সংক্রামক হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে 'অনুপ্রবেশ'ও। ভারত থেকে আমেরিকা, সর্বত্র। কোথাও পিছমোড়া করে 'ফেরত পাঠানো' হচ্ছে, কোথাও আবার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে আটক করে রাতে শোওয়ার জন্য বিছানাটুক...
খিদে ক্রমশ সংক্রামক হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে 'অনুপ্রবেশ'ও। ভারত থেকে আমেরিকা, সর্বত্র। কোথাও পিছমোড়া করে 'ফেরত পাঠানো' হচ্ছে, কোথাও আবার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে আটক করে রাতে শোওয়ার জন্য বিছানাটুকু পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তই হোক কি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, সর্বত্র 'অনুপ্রবেশকারী'রা শুধু বলছেন, ''খিদের জ্বালা বড় জ্বালা''। আর সেই সঙ্গে আবারও স্পষ্ট হচ্ছে, খিদের কোনও দেশ নেই। খিদে কোনও কাঁটাতার মানে না।। তাই জন লেনন গেয়েই চলেন, 'ইমাজিন দেয়ার ইজ নো কান্ট্রি'।
এসআইআর আবহে স্বরূপনগরের হাকিমপুরে বিএসএফ চৌকি এখন গমগম করছে। মাসখানেক আগে এই সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রায় একশোজন মানুষ। যাঁদের আটক করে স্বরূপনগর থানার হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। কিছুদিনের মধ্যে সেখানে ফের ফিরতি-পথের ভিড়। কমবেশি শ-তিনেক মানুষ সেখানে আটকে রয়েছেন সেখানে। বড়দের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা দেখা গেলেও, ছোটরা কিন্তু নিজেদের মতো করে খেলে বেড়াচ্ছে। যদিও, অচিরেই খিদের জ্বালায় কেঁদে উঠবে ওরা, শীত-রাত তাদের আরও শীতার্ত করে তুলবে। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখবেন, 'ন্যাংটো ছেলে আকাশে হাত বাড়ায়/ যদিও তার খিদেয় পুড়ছে গা/ ফুটপাথে আজ লেগেছে জোছনা'।
কেন এসেছিলেন এখানে, কেন অবৈধভাবে বাস করছিলেন এখানে, কেন...? এতসব
'কেন'র উত্তরে বড়রা যা বলছেন, তার সার সংক্ষেপ হল, "খিদের জ্বালা বড় জ্বালা, তাই এসেছিলাম। ময়লা কুড়িয়ে ঝুপড়ি তৈরি করেছিলাম। বাড়ি-বাড়ি কাজ করতাম। বাসনমাজার কাজ। মরদরা কেউ মিস্ত্রির কাজ করতো। কেউ অন্য কোনও কাজ করতো। আমাদের কাছে আধার-ভোটার কোনও কার্ডই নেই। শুনেছি এসআইআর শুরু হয়েছে। তাই ফিরে যাচ্ছি"।
কোথায় ফিরছেন? উত্তর, " সাতক্ষীরায়, খুলনায়, ফিরে যাচ্ছি "।
"বিদেশে অচেনা ফুল পথিক কবিরে ডেকে কহে, যে দেশ আমার, কবি, সেই দেশ তোমারো কি নহে"?
যদিও, বাস্তব বড় কঠিন গদ্য। পদ্যের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ।