এসআইআর-এর প্রতিবাদে হেলিকপ্টারে বসেই ছাব্বিশটি কবিতা লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, সেই পথ ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-বিরোধিতায় 'কঠিন কঠোর গদ্যে' কবিতা লিখে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করলেন: 'আমি অস্বীকার করি'।
আমি অস্বীকার করি---
এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।
আমি অস্বীকার করি--- রাষ্ট্রের নাম রক্তের ঋণ,
আমি অস্বীকার করি--- রক্তের উপর কালির শাসন
আমাদের বলা হল---"নাম দাও", "কাগজ দেখাও"
আর আমরা দিলাম ইতিহাস মাটি আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি
তারা বললো--- "এগুলো যথেষ্ট নয়"
আমরা বললাম তবে বলো--- কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) --- এটা সংখ্যা নয়
এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।
এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ।
রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান,
শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে
সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে।
নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে
তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে?
যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে
সে আইন, আইন নয়,
সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না--- অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর!
যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর
আমি শুধু একজন মানুষ নই --- আজ আমি সাক্ষী,
আর সাক্ষী যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।
আর ইতিহাস
সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না।
ইতিহাস মনে রাখে,
কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল,
কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল!
যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে
যে শাসক মানুষের কথা শোনে না
যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।
কবি-সাহিত্যিক মহলের একাংশ মনে করছে, একদা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যেমন 'গদ্যের হাতুড়ি'তে কবিতাকে ভেঙেছিলেন, অভিষেকের এই কবিতায় যেন সেই হাতুড়ি প্রতিবাদ করছে।