ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে বলতে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলকে ভোট না-দিলে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাওয়া যাবে না। এই হুমকি-সমগ্র রচনা করেছে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শ...
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে বলতে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলকে ভোট না-দিলে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাওয়া যাবে না। এই হুমকি-সমগ্র রচনা করেছে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে সাংসদ পর্যন্ত। ভাঙড়ে তৃণমূলের বিশেষ পর্যবেক্ষক সওকত মোল্লা থেকে শুরু করে কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া। এমতাবস্থায়, মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মানুষ দাবি করছেন, বারংবার আবেদন করেও তাঁরা না-পেয়েছেন বার্ধ্যক্যভাতা, না-পেয়েছেন লক্ষ্মীর ভান্ডার।
কিন্তু কেন? "কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছি, তাই ", বলছেন সেখানকার মানুষজন। এমতাবস্থায়, চন্দ্র পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন খানপুর গ্রামের বাসিন্দারা এবার বিধানসভা ভোট বয়কট করার কথাও ভাবছেন।
মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের পুরাতন খানপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিবারকে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বার্ধক্য ভাতা থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভান্ডার, বারংবার আবেদন মেলেনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা। বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত গ্রামের বৃদ্ধ বৃদ্ধারা। গ্রামের প্রবীণ মানুষজন অভিযোগ করছেন, "বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেও মাসের পর মাস কেটে গিয়েছে, কোনও সাড়া মেলেনি। তাঁদের দাবি,, ব্লক অফিসে গিয়েছি, পঞ্চায়েতে গিয়েছি, এমনকি দুয়ারে সরকার শিবিরে নথিপত্রও জমা দিয়েছি। শুধু বলা হচ্ছে, দেখছি-দেখবো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না"।
একই অভিযোগ লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়েও। ওই গ্রামের মহিলারা সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, "কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছি, তাই আমাদের আর কিছু দিচ্ছে না"। কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাজীব আলির দাবি, "এখানে আমি কংগ্রেসের হয়ে জয়ী হয়েছি তাই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কোনও উন্নয়ন করছে না। বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। দ্রুত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না দিলে ব্লক অফিস ঘেরাও করবো"।
যদিও, জেলার তৃণমূল নেতা আশিস কুণ্ডুর বক্তব্য, আবেদন করার যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে কোনও সমস্যা হতে পারে। তাই তাঁরা সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না-করে তাঁদের পাশে থেকে সহযোগিতা করা উচিত।
়