রাজ্যের যখন প্রথম পর্বের ভোট চলছে, তখন দ্বিতীয় পর্বের প্রচারে এসে নদিয়ার এক জনসভা নরেন্দ্র মোদী দাবি করলেন, "গত ৫০ বছরে সবচেয়ে কম ভোট হিংসা এবার। কমিশনকে অভিনন্দন। ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিচ্ছেন বাংলার ভোটাররা"।
আকাশে কপ্টার, মাটিতে সাঁজোয়া গাড়ি
পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, এবারের বিধানসভা ভোটের অন্যতম স্লোগান পরিবর্তন ঠিকই, তবে একইসঙ্গে ভয়মুক্ত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটও কিন্তু অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। এবং, সেই লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র লোহার বাসর তৈরি করা হয়েছিল। অতি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বলে কমিশনকে এই নিয়ে ক্রমাগত বিঁধতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যের শাসক শিবিরকে। সত্যিই তো, সাঁজোয়া গাড়ি থেকে শুরু করে আকাশপথে বায়ুসেনার কপ্টার, ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করে ২০২১ পর্যন্ত বাংলার বিধানসভা ভোটে এমন যুদ্ধংদেহি আবহ কখনও দেখা যায়নি।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ কমিশন?
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে প্রবল উৎসাহ। মাত্র ঘণ্টাচারেকের মধ্যে ৪১ শতাংশ ভোট! দুপুর ১ টার মধ্যে ৬২ শতাংশ ভোট! নজিরবিহীন এবং নজিরবিহীন। বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া দুপুর একটা অবধি প্রথম দফার ভোট মোটের উপর অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের কথায়: ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচন কমিশন।
'বাহিনী'র দাপটে ছত্রভঙ্গ বাইকবাহিনী
'বাহিনী'র দাপটে ছত্রভঙ্গ তৃণমূলের বাইকবাহিনী! দুপুর ১ টার মধ্যে ৬২ শতাংশ ভোটের নজিরবিহীন রেকর্ড! টসে জিতে ব্যাট করছে বিরোধীরা। এবং, প্রাণপণে পালাতে দেখা যাচ্ছে শাসকশিবিরেক মেজ-সেজ-ছোট নেতাদের। উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু করে বাঁকুড়ার কোতুলপুর, বীরভূমের নানুর, সর্বত্র বুথের কাছে তৃণমূলের বাইকবাহিনী ও জটলাকে মেরে হটিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিস।
পালাচ্ছে তৃণমূল
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ তৃণমূলের ভুয়ো এজেন্টকে পাকড়াও করলেন। পালাতে পথ পেলেন না সেই যুবক। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে মার খেয়ে পাল্টা মার মেরেছে সিপিএম। তুফানগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী তাড়া করলেন এক তৃণমূল কর্মীকে। প্রাণপণে পালাতে থাকলেন সেই কর্মী। বিজেপি প্রার্থীর মুখে শুধু শোনা গেল, "এত সাহস, আমাদের এজেন্টকে বসতে দেবে না"।
এবং, অধীর চৌধুরীর বহরমপুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটাররা উৎসবের মেজাজে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন।
'অহিংস ও ভয়শূন্য' ভোট
দুদিনের বঙ্গসফরে এসে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার খুব তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছেন, "রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের তপোভূমিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন আবারও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটারকে বার্তা দিতে চায়, নির্বাচন হবে অহিংস (Violence Free) এবং ভয়শূন্য (Intimidation Free)"। পর্যবেক্ষকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন দ্বিতীয়টির উপর। যে-চোখরাঙানি চোখে দেখা যায় না, যে-হুমকি কানে শোনা যায় না, একেবারে ঠিক সেই জায়গাতেই জোর দিয়েছেন তিনি: 'ইন্টিমিডেশন ফ্রি (Intimidation Free)'। বুথের ভিতর যতটা নজর কমিশনের, ঠিক ততটাই নজর বুথের বাইরে। রাজ্যের আমলা ও পুলিস কর্তাদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, শুধু ভোটের দিন কোথাও কোনও রক্তপাত হবে না, তা নয়, 'নিঃশব্দ অদৃশ্য সন্ত্রাস'ও এবার আর বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে ধমক দিয়ে তিনি বলেছেন, "সব জানি, বসুন"। বেশ কয়েকজন জেলাশাসককে সতর্ক করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সব কাজের 'ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট' রয়েছে ও রয়ে যাবে, তাই, বেচাল দেখলে ভোট-পর্ব শেষ হওয়ার পরেও পদক্ষেপ করবে কমিশন।