পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় আরও চাপে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার সরাসরি এই মামলার তদন্তভার গেল সিআইডি-র হাতে। ইতিমধ্যেই তাঁর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে আধিক...
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় আরও চাপে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার সরাসরি এই মামলার তদন্তভার গেল সিআইডি-র হাতে। ইতিমধ্যেই তাঁর খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে আধিকারিকরা। যদিও আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সুমিতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে আজ, বৃহস্পতিবার জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শালবনির জমি কেলেঙ্কারির মামলায় ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করা হয়েছে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। সেই তদন্তের সুত্র ধরেই নাম উঠে এসেছে সুমিতের। এবার এই মামলায় আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করল জমি জালিয়াতি মামলার অভিযোগকারী শেখ ইমরান। তাঁর দাবি, এই মামলা থেকে সরে আসার জন্য পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁকে একাধিকবার চাপ দিয়েছিল কলকাতার নেতারা! যদিও সেই নাম সাংবাদিকদের সামনে জানাতে চাননি ইমরান।
পাশাপাশি একটি নথি প্রকাশ্যে এনে তাঁর আরও অভিযোগ,যজ্ঞেশ্বরপুর মৌজার একটি জমি প্রথমে ছিল সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর নামে। সেই জমির উপরে গড়ে উঠেছে বিশাল পেট্রোল পাম্প, হোটেল। পরবর্তীকালে সেই জমি নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরেই জমির রেকর্ড রিস্টোর করা হয়। বর্তমানে ওই জমি রয়েছে এক নম্বর খতিয়ানে। রেকর্ড অনুযায়ী জমির মালিক বর্তমানে রাজ্য সরকার। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, পেট্রোল পাম্প হোটেল দুটির মালিক সুজয় হাজরা ঘনিষ্ঠ শরফুদ্দিন খানের স্ত্রী মালতি বিবির নামে রয়েছে।
এই শারফুদ্দিন খান জমি জালিয়াতি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত! একইভাবে এই মামলায় প্রধান অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন কৈলাস আগরওয়াল, নিত্য রায় সহ বেশ কয়েকজন। যারা এখনো পর্যন্ত পুলিসের নাগালের বাইরে। সূত্রের খবর, সুমিতের পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা
উল্লেখ্য, জমি জালিয়াতির মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানিয়ে অতি সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন অভিযোগকারী শেখ ইমরান। এরপরই এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি আধিকারিকরা। অন্যদিকে গ্রেফতারি থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম দ্বারস্থ হয়ে এক সপ্তাহের জন্য শর্তসাপেক্ষ রক্ষাকবচ পেয়েছেন সুমিত। আজ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে সম্ভবত এই মামলার পরবর্তী শুনানি।