সোমবার কমিশন চত্বরে তৃণমূলের প্রবল বিক্ষোভ ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাতের অন্যতম বিষয় ছিল, গণহারে ফর্ম-৬ (ভোটার তালিকায় কেউ নাম তুলতে চাইলে) জমা দিচ্ছে বিজেপি...
সোমবার কমিশন চত্বরে তৃণমূলের প্রবল বিক্ষোভ ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাতের অন্যতম বিষয় ছিল, গণহারে ফর্ম-৬ (ভোটার তালিকায় কেউ নাম তুলতে চাইলে) জমা দিচ্ছে বিজেপি এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। অভিষেক-সাক্ষাতের পরেই ফর্ম-৬ নিয়ে কড়াবার্তা দিয়ে ‘বাল্ক সাবমিশন’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল কমিশন। এবং, সেইসঙ্গে জানিয়ে দিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিতে হবে, অনলাইনে অথবা অফলাইনে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফর্ম-৬ জমা দিয়ে অনেকেই আবেদন করেন এবং প্রতিটি আবেদনপত্রই কমিশন খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) বাড়ি গিয়ে যাচাই করেছেন আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাস। ফলে একসঙ্গে অনেকগুলি ফর্ম জমা পড়লে তাকে সন্দেহের চোখেই দেখছে কমিশন।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে ফর্ম-৬ জমা দিতে হবে—অনলাইনে বা নির্দিষ্ট দফতরে গিয়ে। নিয়ম ভাঙলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি তদন্তও শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী কমিশন দফতরে যান এবং বেরিয়ে এসে এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানান, "ফর্ম-৬ নিয়ে যা দাবি করা হচ্ছে তা সত্যি নয়। আমাদের দলের শিশির বাজোরিয়া বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে কমিশনকে"।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জনসভা থেকে প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, বহিরাগতরা বাংলায় ভোট দিতে আসছেন। এবং, এই বহিরাগত ভোটারদের নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে কমিশনকে বিঁধেছেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মুখেও শোনা গিয়েছে, বিজেপির কথায় ভুয়ো নাম তালিকাভুক্ত করছে কমিশন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফর্ম-৬ দিয়েই যেহেতু নতুন নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাই তার ওপর রাশ টানার দাবি করেন অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ভুয়ো বা বিশেষ করে মৃতের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে ফর্ম-৭ জমা দিতে যখন বিডিও, এসডিও অফিসে বিজেপি কর্মীরা যান, তখন কিন্তু তৃণমূলের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের।