একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এত ঘন-ঘন আসতেন যে, রাজ্যের শাসকদল কটাক্ষ করে বলতো, ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে তাই কিছুটা সতর্ক হয়...
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এত ঘন-ঘন আসতেন যে, রাজ্যের শাসকদল কটাক্ষ করে বলতো, ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে তাই কিছুটা সতর্ক হয়েই বঙ্গসফর করছেন মোদী। সরকারি প্রকল্প বা কর্মসূচির ঘোষণা করতে গত ছ-মাসে একাধিকবার বাংলায় এসেছেন তিনি। সরকারি কর্মসূচি শেষ করে জনসভায় বক্তৃতাও দিয়েছেন তিনি। তবে আগের মতো 'ডেলি প্যাসেঞ্জারি' করতে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, যে-ব্রিগেডে লক্ষ-কণ্ঠে গীতপাঠের আয়োজন করে গেরুয়া শিবির, ভোটের আগে সেই ব্রিগেডে এবার নরেন্দ্র মোদীর সভা করবেন না? বলাই বাহুল্য, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী সভা করলে বঙ্গবিজেপিকে লক্ষ-লোক জড়ো করতে হবে। নইলে, মুখ পুড়বে বিজেপি নেতৃত্বের। এহেন জল্পনার মাঝে, সূত্র জানাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মার্চেই নরেন্দ্র মোদী ব্রিগেডে সভা করতে পারেন। বিজেপির রথযাত্রার আগেই আচমকা মোদীর সভার দিন ঘোষণা করতে পারে বঙ্গবিজেপি নেতৃত্ব।
প্রার্থী হবেন কারা?
বঙ্গবিজেপি-সূত্রে খবর, ২৯৪ টি আসনে তিনটি করে নাম পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। তারপর সেই নামের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা চলবে। সমীক্ষায় যে-নাম এগিয়ে থাকবে, সেই নামের উপর সিলমোহর দেওয়া হবে। তবে সমীক্ষা শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নিয়েই হবে না। সমীক্ষার মাধ্যমে ভোটারদের মনের কোণেও উঁকি মারতে চাইবে বিজেপি। বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে গেরুয়া-শিবির এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শুধু বড়-বড় জনসভা নয়, পাড়ায়-পাড়ায় ছোট-ছোট সভা বা জমায়েতের মাধ্যমে জনসংযোগ করা হবে। তবে বড় সভা যে হবে না, তা কিন্তু নয়। তবে সেই সভায় হেভিওয়েটরা বক্তৃতা দেবেন। সূত্রের খবর, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভার পর শিলিগুড়িতেও সভা করবেন নরেন্দ্র মোদী।
নির্বাচনী সংকল্প-পত্র
নির্বাচনী সংকল্প পত্র বা ইশতেহার বার করার আগে পাড়ায়-পাড়ায় এই প্রচার কর্মসূচি নিয়েছে বঙ্গবিজেপি। এবং এভাবেই কার্যত জনমত সমীক্ষায় নামছে তারা। নরেন্দ্র মোদী, নিতিন নবীন, শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া সেই ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে থাকছে ফোন নম্বর: আপনার পরামর্শ জানাতে যোগাযোগ করুন।
কেউ চাইলে তাঁর পরামর্শ বা অভাব-অভিযোগের কথা লিখে ওই গাড়িতে থাকা ড্রপ বক্সে জমা দিতে পারেন। রয়েছে কিউআর কোডের বন্দোবস্তও। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে মহিলাদের নিরাপত্তা, চাকরি, শিল্প তো রয়েইছে। তার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যার কথাও জানতে চায় বঙ্গবিজেপি নেতৃত্ব। এই মতামত, অভাব-অভিযোগ এবং বাঙালির চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনে, তার ভিত্তিতেই বিধানসভায় সংকল্প পত্র বা ইশতেহার তৈরি করা হবে বলে খবর।