জন্মের শংসাপত্র নিয়ে তাঁর সরকার যে অচিরেই মাঠে নামবে, সম্প্রতি সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তা শুরু হয়ে গেল পুরোদমে।পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসআইআর চলাকালীন যেসব নথি চা...
জন্মের শংসাপত্র নিয়ে তাঁর সরকার যে অচিরেই মাঠে নামবে, সম্প্রতি সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তা শুরু হয়ে গেল পুরোদমে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসআইআর চলাকালীন যেসব নথি চাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্য়তম ছিল জন্মের শংসাপত্র। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জট ছাড়াতে জন্মের শংসাপত্র খুবই জরুরি ছিল তখন। এবং, অভিযোগ ওঠে, কলকাতা পৌরসভা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় যথেচ্ছভাবে জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের তৎকালীন শাসক শিবির, ভুয়ো অথবা মৃত ভোটারের নাম তালিকায় রাখতে জন্ম ও মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়ার কৌশল নিয়েছিল।
এমতাবস্থায়, কিছুদিন আগেও প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, জন্মের পর দু-বছরের বেশি সময় কেটে গেলে শংসাপত্র পেতে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হবে। স্থানীয় পৌরসভার বদলে জেলাশাসক অথবা মহকুমা শাসকের দফতরে আবেদন করতে হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যাদের নাম ভোটারতালিকায় তুলতে জন্মের শংসাপত্র প্রয়োজন হত তৃণমূল সরকারের আমলে, তাদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বা তার বেশি হত। তখন তারা চাইলে স্থানীয় পৌরসভা থেকে জন্মের শংসাপত্র পেয়ে যেত। কিন্তু, এবার থেকে যেহেতু জন্মের পর দু-বছর কেটে গেলেই জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হবে, তাই সেখানে জল মেশানোর কােনও সুযোগ থাকবে না। যাকে জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হবে, সে সত্যিই এ-দেশের নাগরিক কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে তখন।
এবার থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পৌরনিগমের মেয়রের হাতে জন্মের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতাই থাকবে না আর। এৃকমাত্র প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই তা দিতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়। যে সব নথির ভিত্তিতে এতদিন পৌরসভা জন্মের শংসাপত্র দিয়েছিল, তা ফের যাচাই করা হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল প্রশাসনের শীর্ষমহলে এই বার্তা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর শংসাপত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ, ভোটের দিন ‘মৃত’ ভোটারকে ‘জীবিত’ করে ছাপ্পা দেওয়ার দৃষ্টান্ত অসংখ্য।