যোগীরাজ্য থেকে সোজা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিস পর্যবেক্ষক হয়ে আসা 'সিংঘম' অজয় পাল শর্মার দাপটে রাজ্যের শাসকশিবির ইতিমধ্যেই ব্যতিব্যস্ত। এমতাবস্থায়, একপ্রকার লোকচক্ষুর অগোচরেই রাজ্যে এই মুহূর্তে অ্যাকশন মোডে এনআইএ!
দ্বিতীয়দফার ভোটের একদিন আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (NIA) দল। এই দলগুলি বোমা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ভোটগ্রহণের আগে, এমনকি, ভোটচলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তৎদণ্ডে পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত রয়েছে এনআইএ।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় দফার ভোট প্রথম দফার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। ভবানীপুরে থেকে শুরু করে লেকটাউন হয়ে দমদম অবধি ভিআইপি প্রার্থীদের ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এতটুকু ছিদ্র রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রথম দফায় বড়সড় কোনও গন্ডগোল না-হলেও বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমিশনের নেতৃত্বে কুইক রেসপন্স টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশি সময় নেয়নি ঠিকই। কিন্তু, দ্বিতীয় দফায় যাতে তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরিই না-হয়, এবার সেদিকে নজর রেখেছে কমিশন। এমতাবস্থায়, পুরনো মামলার তদন্ত হোক কি নতুন মামলার তদন্ত, রাজ্যে এনআইএ-র সক্রিয়তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ২১০০ কোম্পানি!
প্রথম দফার ভোটের প্রথমার্ধ মোটের ওপর নির্ঝঞ্ঝাট ছিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু জায়গায় শুরু হয় অশান্তি। খয়রাশোল, দুবারাজপুর, কুমারগঞ্জ, কোথাও আক্রান্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা, কোথাও-বা প্রাণভয়ে ছুটতে দেখা গিয়েছে বিরোধী দলের প্রার্থীকে। তাহলে? কতটা 'ভয়শূন্য' ভোট হল এদিন?
সন্ধের দিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করলেন, "মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছে"।
তাহলে খয়রাশোল, দুবরাজপুর, কুমারগঞ্জে কী হল? মুর্শিদাবাদে কী হল?
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ব্যাখ্যা ছিল, "বুথের ১০০ মিটারে মধ্যে তেমন কোনও গোলমাল হয়নি। তার বাইরে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। এর কারণ হল, পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের আগে রুটমার্চ করে এলাকায়। কিন্তু, ভোটের আগের রাত থেকে ৯৫ শতাংশ বাহিনী চলে আসে বুথে। তখন বাইরের টহলদারির জন্য ৫ শতাংশ বাহিনী থাকে। তাই, এদিন বুথের ১০০ মিটারের বাইরে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। তবে, কোনও বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। সংঘর্ষে মৃত্যু বা গুরুতর জখমের ঘটনা কিন্তু ঘটেনি"।
মনোজ আগরওয়ালের পাশে বসে থাকা এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জানান, নির্দিষ্ট ধারায় ৪১ জন গ্রেফতার হয়েছে। আর প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারির সংখ্যা ৫৭০।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারে বাংলায় এসে কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, "গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হিংসা হয়েছে এই ভোটে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছে"।
পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয় দফায় কি সর্বত্রই 'সিংঘম'?