রবিবার রাতে ৭ জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনকে তোপ দেগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করলেন, "৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করলেন। তাঁদের আত্মপক্ষ সম...
রবিবার রাতে ৭ জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনকে তোপ দেগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করলেন, "৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করলেন। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দিলেন না। একজন চোরও কিন্তু আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়"। এবং 'ভ্যানিশ কুমার'কে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, ভবানীপুরে (মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র) মাত্র আড়াই লাখ ভোটার। সেখান থেকেও ৪৪ হাজারের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।
অ্যাকশন মোডে কমিশন?
আবেদন নিবেদনে কাজ না-হওয়ায় সরাসরি ৭ জন ইআরওকে সাসপেন্ড করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল রীতিমতো উত্তপ্ত। এছাড়া, আরও চারজনের নামে এফআইআর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজ্যের অধীনে কর্মরত ১১ জন আধিকারিকের সার্ভিস বুকে যে-'দাগ' লাগলো, কর্মজীবনে তার খেসারত তাঁদেরই দিতে হবে। ভবিষ্যতে পদোন্নতি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে তাঁদের। এমতাবস্থায়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বার্তা দিলেন, "নিয়ম মেনে কাজ করুন, কেউই অসীম ক্ষমতাশালী নন"।
নবান্ন থেকে কমিশনকে তোপ
"চাইলে ঘেরাও করে রাখতে পারি। কিন্তু করিনি। নিজেদের ক্ষমতার পরিধির মধ্যে কাজ করুন। ৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করলেন। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দিলেন না। একজন চোরও কিন্তু আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়। সোজা আঙুলে ঘি উঠছে না, বাঁকা আঙুলে ঘি তোলার চেষ্টা করছেন"।
মঙ্গলবার 'তুঘলকি' নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এভাবেই তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যন্ত মানছে না কমিশন, সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র
এসআইআর পর্বে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাদ গিয়েছে কমবেশি ৪৪ হাজার নাম। যদিও, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এই সংখ্যা কততে দাঁড়াবে, কমবে নাকি বাড়বে, তা বলা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করবেন বলে দাবি করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পর্যবেক্ষকরা মনে করাচ্ছেন, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দলের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এবং, তারও বেশ কিছুদিন আগে মমতা অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে বস্তি উচ্ছেদ করে বহুতল উঠছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভবানীপুর যেভাবে অ-বাঙালি ভোটারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তাতে করে শেষ অবধি নিজের দুর্গ অটুট রাখতে সর্বশক্তি নিয়ে নেমে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।