ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ। পেশায় একজন সাধারণ চায়ের দোকানি এজাহার শেখ, যিনি টানা ৩৬ বছর ধরে একই নামেই ভোট দিয়ে আসছেন। তিনি এক রাতারাতি হয়ে গেলেন ‘সুভাষ সিং’। এমনই এক অবি...
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ। পেশায় একজন সাধারণ চায়ের দোকানি এজাহার শেখ, যিনি টানা ৩৬ বছর ধরে একই নামেই ভোট দিয়ে আসছেন। তিনি এক রাতারাতি হয়ে গেলেন ‘সুভাষ সিং’।
এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল কালিয়াচক–১ ব্লকের আলিপুর–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫ নম্বর বুথের মারুয়াবাদি কুঠি এলাকায়। ভোটার তালিকায় তাঁর সিরিয়াল নম্বর ১৮২। হঠাৎ করে হিয়ারিংয়ের নোটিস এসে পৌঁছতেই চক্ষু চড়কগাছ পরিবারের। নোটিসে এজাহারের নাম নেই, সেখানে লেখা ‘সুভাষ সিং’। কোনও আগাম নোটিস, কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন সংখ্যালঘু চায়ের দোকানির পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গোটা এলাকা হতভম্ব।
এই ঘটনার জেরে চরম সামাজিক হেনস্থার মুখে পড়েছেন এজাহার। অভিযোগ, এলাকায় তাঁকে ‘সুভাষ সিং’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। দোকানে বসতে গেলে হাসি-ঠাট্টা, বিদ্রুপ আর অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। লজ্জা ও আতঙ্কে কার্যত গৃহবন্দি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবু সমস্ত অপমান উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট হিয়ারিংয়ের দিনে ‘সুভাষ সিং’ নামে আসা নোটিস হাতে নিয়েই তিনি হাজির হন এবং নিজের আধার, ভোটার কার্ড সহ সমস্ত বৈধ নথি জমা দেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে— কালিয়াচক এক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সারিউল শেখ বলেন, নির্বাচন কমিশনের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের জন্য একজন সাধারণ নাগরিককে কেন এত বড় মানসিক ও সামাজিক মূল্য দিতে হবে? এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি এখন জোরালো হল।