পুলিসি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে হালিশহরের তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের। তিনিই ছিলেন বাড়ির একমাত্র রোজগেরে। তাই স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট। একদিকে স্বামীর মৃত্য...
পুলিসি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে হালিশহরের তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের। তিনিই ছিলেন বাড়ির একমাত্র রোজগেরে। তাই স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট। একদিকে স্বামীর মৃত্যুর বিচার, অপরদিকে দুই সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার গুরু দায়িত্ব এখন তাঁর ওপরেই। এই পরিস্থিতি অসহায় পরিবারের পাশে 'ত্রাতা' হয়ে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিলেন একটি সরকারি চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজধর্ম পালনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন মৃতের স্ত্রী।
এদিন নিহতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট জানান, মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে অ্যাটেনডেন্টের চাকরি দিয়েছেন। পাশাপাশি ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের বন্দোবস্ত করেছেন। তবে তাঁর দাবি, স্বামীর মৃত্যুর সুবিচার। জেনির অভিযোগ, পুলিসি হেফাজতে অত্যাচারের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্বামীর। তাঁর দাবি, শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত সুস্থ ছিলেন বিরজু। তারপর আচমকা তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছোয় বাড়িতে।
এই পরিস্থিতি গোটা ঘটনার দ্রুত তদন্ত হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি পুলিসের গাফিলতির কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। বলে রাখা ভালো, গতকাল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝ পথেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রীতিমত তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা আর চটি ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। শেষমেশ যদিও তৃণমূল কর্মীর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছন মমতা। তবে নিহতের স্ত্রী জেনির সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর। কেন দেখা করলেন না জেনি? তাঁর দাবি, সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন বলে দেখা হয়নি। আবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়িতে আসলে দেখা করবেন? সে প্রশ্নের জবাব যদিও এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।