২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চরম অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বর্তমান বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও খুনের অভিযোগ এবার পোস্টার পড়ল তারই বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন...
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চরম অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বর্তমান বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও খুনের অভিযোগ এবার পোস্টার পড়ল তারই বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় । আরও অবাক করার মত ঘটনা এই পোস্টারের নিচে কোনও বিরোধী দলের নাম নেই , এই পোস্টারের নিচে লেখা, সৌজন্যে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা।
বিধায়কের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসেরই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুদ্ধদেব দাসকে খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দলের একাংশ বিক্ষুব্ধ কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে এই অভিযোগ ঘিরে শাসকদলের অন্দরে প্রকাশ্য বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়েছে, যার মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টারগুলিতে দাবি করা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন কাজে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়ছয়, কাজ না করেই বিল তোলা এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করার মতো গুরুতর অভিযোগ।
সূর্য্যনগর, মধুসূদনপুর, নারায়ণপুর, স্বামী বিবেকানন্দ পঞ্চায়েত সহ কাকদ্বীপের একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় এই দুর্নীতির পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ সকলেই শুনেছিল, এবার তা প্রকাশ্যে চলে এল।
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, মন্টুরাম পাখিরাকে আর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মানা হবে না। তাঁদের দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেওয়া হলে তিনি লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত হবেন। এমনকি প্রার্থী পরিবর্তন না হলে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কাকদ্বীপের বিধায়ক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একাধিকবার তারা কোন উত্তর দেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জয়দেব হালদার জানান এ বিরোধী দল বিজেপির চক্রান্ত। তারাই ফেলেছে এই পোস্টার। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টি অস্বীকার করে জানানো হয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্ধের জেরেই এই পোস্টার পরেছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে কাকদ্বীপে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের এই ক্ষোভ ও বিদ্রোহ যে শাসকদলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে তা বলাইবাহুল্য।