‘ডিজে’ মন্তব্যকে ঘিরে আইনি জট আরও গভীর হচ্ছে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। মামলার তদন্তে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল সিআইডি। গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্করকে সাক্ষী হিসেবে ডেকে তাঁর ...
‘ডিজে’ মন্তব্যকে ঘিরে আইনি জট আরও গভীর হচ্ছে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। মামলার তদন্তে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল সিআইডি। গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্করকে সাক্ষী হিসেবে ডেকে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। বিধায়কের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য মন্তব্যের জেরেই তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হল।
বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই ভবানীভবনে সিআইডি দফতরে হাজির হন বিকর্ণ নস্কর। প্রায় দুপুর ১২টা নাগাদ তিনি তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার তদন্তে তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। বিকর্ণ নস্করের অভিযোগ, চলতি বছরের ৪ মে বিজয় মিছিল শেষে ফেরার পথে ক্যানিং এলাকায় তাঁর ও বিজেপি কর্মীদের উপর সংগঠিত হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের মদতেই ওই হামলা হয়েছিল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত ‘ডিজে’ মন্তব্য সেই হামলার পরিবেশ তৈরি করেছিল। হামলায় ইটবৃষ্টি থেকে শুরু করে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগও করেছেন তিনি।
এই মামলাটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিধাননগর আদালত অভিষেককে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পরপর দু’বার তিনি হাজির না হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৮ জুলাই তাঁকে তৃতীয়বারের জন্য ডাকা হয়েছে। এদিকে, বিকর্ণ নস্করের সাক্ষ্য রেকর্ড হওয়ার ফলে তদন্তে নতুন একটি দিক যুক্ত হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এবং পরবর্তী হামলার ঘটনার মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না। সেই কারণেই সাক্ষীদের বয়ানকে গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি।
ফলে, কণ্ঠস্বরের নমুনা নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের পাশাপাশি এবার সাক্ষ্যপ্রমাণের দিক থেকেও চাপ বাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালতে এই সাক্ষ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও তদন্তকারী সংস্থার।