রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দেখা গিয়েছিল আগেই: একই প্রতীকে জয়ী দুই-বিরোধী শিবির কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াবে? এবং, কে কাকে টক্কর দেবে? বিধানসভার চলতি অধিবেশনে গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটল, তাতে করে পর্যবেক্ষ...
রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দেখা গিয়েছিল আগেই: একই প্রতীকে জয়ী দুই-বিরোধী শিবির কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াবে? এবং, কে কাকে টক্কর দেবে? বিধানসভার চলতি অধিবেশনে গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটল, তাতে করে পর্যবেক্ষকদরে কৌতূহল কিছুটা হলেও মিটল। এদিন কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আনা হল বিধানসভায়।
ঘটনার সূত্রপাত দিন-দুই আগে। বিরোধী শিবির থেকে আখরুজ্জামান যখন তাঁর বক্তব্য রাখেন, তখন কুণাল ঘোষ কার্যত তাঁকে বলতে না-দিয়ে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁর নাম দেওয়া হল না তালিকায়। প্রসঙ্গত, আখরুজ্জামান ঋতব্রত-শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক। এমতাবস্থায়, হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়। স্পিকার সতর্ক করেন কুণালকে। কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। তখন মার্শাল ডেকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বার করে দেওয়া হয় কুণাল ঘোষকে।
এমতাবস্থায়, শুক্রবার কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আনেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। কুণাল বলেন, স্পিকারকে অসম্মানকে করা কখনওই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও যেহেতু তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে সেদিন ওই আচরণ করতে হয়েছিল।
এই ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর, সংবাদমাধ্যমের সামনে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের দাবি, “কুণাল ঘোষ ওঁদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আনা হয়েছে এই ঘটনার জন্য! আমার বিধায়ক পদ খারিজ করতে চাইছেন”?
এদিন বিধানসভায় কুণাল স্বীকার করে নেন, তাঁদের মধ্যে একটা সমস্যা রয়েছে ঠিকই। এবং, ‘তাঁদের’ বলতে ঋতব্রত-তৃণমূল ও কালীঘাট-তৃণমূলকেই বুঝিয়েছেন কুণাল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কুণাল তাঁর ওই আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন স্পিকারের কাছে। কিন্তু, তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস গৃহীত হওয়ায় পরে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এদিকে, মার্শাল ডেকে কুণালকে বার করে দেওয়ার ঘটনাকে কলঙ্কজনক বলে নথিবদ্ধ করার দাবি ওঠে। অন্যদিকে বলা হয়, মার্শাল ডেকে বিধায়ককে বার করে দেওয়ার ঘটনা অতীতে অনেকবার দেখা গিয়েছে। তাই কলঙ্কজনক বলে অভিহিত করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর বিধানসভার পরিষদীয় দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়। ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হয়ে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক মিলে একটি শিবির তৈরি করেন এবং সেই শিবিরের নেতৃত্ব দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা বলে স্বীকৃতি দেন। যার বিরুদ্ধে হাইকোর্টেও গিয়ে লাভ হয় না কালীঘাট-তৃণমূলের।