নজিরবিহীন! রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল গণনার সপ্তাহদুয়েক বাদে একটি বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে, বাংলায় অন্তত এমন নজির স্মরণ করতে পারছেন না পর্যবেক্ষকরা। স্মরণকালের মধ্যে তো নয়ই, এমনকি, স্মরণাতীত কালেও নয়।
শুধু কি তাই?
এমন কোনও পুনর্নির্বাচনও স্মরণ কালে ও স্মরণাতীত কালে ঘটেছে কি না সন্দেহ। একটি বিধানসভার প্রতিটি বুথেই ফের ভোট!
নজিরবিহীন?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫ টি বুথেই যেভাবে ফের ভোট হতে চলেছে, তা নজিরবিহীন তো বটেই।
ইভিএম কারচুপি?
হ্যাঁ। ইভিএম কারচুপি। ফলতার ২৮৫ টি বুথের ইভিএমে সেলোটেপ-কারচুপি চলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এমনভাবে ইভিএমের বোতামে সেলোটেপ বা ব্ল্যাকটেপ লাগানো থাকে, যাতে করে একটি প্রতীক ছাড়া অন্য কোনও প্রতীকে ভোট দেওয়াই সম্ভব হয় না। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ করে আসছে। এবং, তাঁদের নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'। ঘাসফুল প্রতীককে বাদ দিয়ে নাকি বাকি সব প্রতীকের বোতামে টেপ আটকে রাখা হয় এবং ভোটাররা ঘাসফুলে ভোট দিতেই বাধ্য হন। এবং, ওয়েবক্যামেরাই দীর্ঘক্ষণের জন্য বিকল করে দেওয়া হয়।
কমিশনসূত্রে খবর, ইভিএমে এই ধরনের কারচুপি হয়েছে এবং ওয়েবক্যামেরা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। আর, সেই কারণেই পুনর্নির্বাচন।
কমিশনের ক্যামেরায় কেন ধরা পড়ল না?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,
"কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন, তা গোপন থাকবে। এবং, এটাই আইন। সেই কারণে বুথের ক্যামেরায় শুধু এটুকুই দেখা যাবে, একজন ভোটার ঘেরা জায়গার মধ্যে ভোট দিতে ঢুকছেন এবং ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। বুথের বাকি অংশে কোথায় কী ঘটছে তা ধরা পড়বে কমিশনের ক্যামেরায়"।
কী বলছেন পর্যবেক্ষকরা ?
কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করার প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে সুব্রত গুপ্ত বলেছিলেন, দুটি ক্যামেরা থাকবে, একটির নজর থাকবে বুথের বাইরে আর অন্যটি চেয়ে থাকবে বুথের ভিতরে। কিন্তু, ইভিএম-জোনে কোনও ক্যামেরা থাকবে না। কারণ, তা থাকলে কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন, তা গোপন থাকবে না।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু তা-ই নয়, ওই জোনে ক্যামেরা থাকলে কে কোন দলকে ভোট দিচ্ছেন তা কমিশন জানতে পারবে। এবং, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
তাই কমিশনের ক্যামেরায় টেপ-লাগানো ইভিএম দেখা যাবে না। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কমিশন জানতে পারবে আদৌ কী হয়েছে-না-হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আর কেউ নন, স্বয়ং জাহাঙ্গির খান!