প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার ভোটও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয় ঠিকই। তবে, প্রত্যাশিতভাবেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে-থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাঙড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও তা অন্যবারের তুলনায় নগণ্য। কিন্ত...
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার ভোটও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয় ঠিকই। তবে, প্রত্যাশিতভাবেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে-থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাঙড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও তা অন্যবারের তুলনায় নগণ্য। কিন্তু, ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাটে সেই চিরপরিচিত দৃশ্য দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিবারের মতো এবারও ইভিএমে এমনভাবে সেলোটেপ লাগানো হয় যে ঘাসফুল ছাড়া অন্য কোনও প্রতীকে বোতাম টেপাই সম্ভব হয় না। কিছু জায়গায় আতর-কাণ্ডও ঘটে বলে দাবি। অর্থাৎ, ঘাসফুলের বোতামে আতর মাখানো থাকবে। কোনও ভোটার যদি ঘাসফুল ব্যতীত অন্য কোনও প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে তাঁর আঙুলের গন্ধ শুঁকেই শনাক্ত করা যাবে যে, তিনি তৃণমূলকে ভোট দেননি। এবং, ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁর পরিবাররে পরিণতি হয়ে ভয়ঙ্কর।
এই পরিস্থিতিতে, একাধিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে, কমিশন জানতে পারে, বেশ কিছু ইভিএমে এবারও এই ধরনের কাণ্ড ঘটেছে। এমনকি, ওয়েবক্যাম 'বিকল' থেকেছে কিছু জায়গায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে এই অভিযোগ প্রতিবারই তোলেন বিরোধীরা। এবং দাবি করেন, এই নিখুঁত নিঃশব্দ অপারেশনের দায়িত্বে থাকেন স্বয়ং জাহাঙ্গির খান। শুধু তা-ই নয়। ভয় দেখিয়ে এইসব কেন্দ্রের ভোটারদের থেকে নাকি ভোটার কার্ড কেড়ে নেয় জাহাঙ্গির-বাহিনী। তারপর 'চুপচাপ ফুলে ছাপ'।
দ্বিতীয় দফার ভোটে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রপ গুপ্ত পরেরদিন সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এবং, তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুনর্নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এদিন, মগরাহাট পশ্চিমের ১১ টি বুথ ও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ৪ টি বুথে পুনর্নির্বাচন শুরু হয়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, জাহাঙ্গির খানের বিধানসভা কেন্দ্র ফলতায় কবে পুনর্নির্বাচন হবে এবং আদৌ হবে কি না। কারণ, সোমবার সকাল হলেই ভোট গণনা শুরু। গণনার পর পুনর্নির্বাচন কার্যত নজিরবিহীন। কেন না, গণনায় যে-পক্ষ এগিয়ে থাকবে বা জয়ী হবে, তার দিকেই হাওয়া ঘুরবে পুনর্নির্বাচনে। তাই কোনও সাধারণ নির্বাচনে গণনার পর পুনর্নির্বাচনে নজির নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় পর্যবেক্ষকরা দুটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। প্রথমটি হল, ফলতায় হয়তো আর পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন বোধ করছে না কমিশন। দ্বিতীয়টি হল, যে কোনও মুহূর্তে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে কমিশন। খুব সম্ভববত, এদিনের পুনর্নির্বাচন চলাকালীনই।
তবে, সোমবার ভোট গণনার পর যদি ফলতায় পুনর্নির্বাচন হয়, তাহলে তা নজিরবিহীন হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা স্থগিত থাকবে সোমবার। বাংলায় এবারের ভোটে যা ঘটছে, তার অনেককিছুর নজিরও কিন্তু সেভাবে নেই বললেই চলে। রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগের হাতে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দিয়ে তাই মন্তব্য করেছিলেন, 'অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক নির্দেশ'।