সপ্তাহের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা নির্বাচন কমিশনকে ১০ গোল দিয়েছিলেন। সপ্তাহ শেষ হতে-না-হতেই সেই ১০ গোল শোধ করে দিল কমিশন। &nbs...
সপ্তাহের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা নির্বাচন কমিশনকে ১০ গোল দিয়েছিলেন। সপ্তাহ শেষ হতে-না-হতেই সেই ১০ গোল শোধ করে দিল কমিশন।
কী বলেছিল শীর্ষ আদালত?
এসআইআর নিয়ে আরও চড়লো নবান্নের সঙ্গে দিল্লির নির্বাচন সদনের সংঘাত। কেন? সপ্তাহের গোড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি মেনে ভিনরাজ্য থেকে আসা কমিশনের মাইক্রো অবজারভারদের ডানা ছেঁটে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এবং সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে না-থাকবে, তা নিয়ে চূ়ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। প্রসঙ্গত, মহকুমা শাসক বা এসডিও-রা কমিশনের অধীনে ইআরও-র ভূমিকা পালন করছেন। আদালত জানায়, চাইলে ইআরও পরিবর্তন করতে পারবে কমিশন। কিন্তু, ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভাররা ইআরও-কে কেবল সহায়তা করবেন, তার বেশি কিছু নয়। এবং, রাজ্যের প্রস্তাবিত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গ্রুেড-২ আধিকারিকদের দিয়েই এসআইআর সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এটাই চেয়েছিলেন। এর আগের সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার সওয়াল-জবাবের সময়ে ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভারদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি। এমতাবস্থায়, সোমবারের শুনানির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাজ্য সরকার তাদের সাড়ে ৮ হাজার গ্রেড-২ আধিকারিকদের দিয়ে কমিশনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এদিন যখন ওই প্রসঙ্গ ওঠে, তখন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন যে, তাঁরা আগেই চেয়েছিলেন রাজ্য গ্রুেড-২ আধিকারিক দিক, কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। শেষ অবধি ঠিক হয়, পরেরদিন থেকেই ইআরও-দের রিপোর্ট করে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন রাজ্যের আধিকারিকরা।
নবান্ন বনাম নির্বাচন সদন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো কমিশনকে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গ্রেড-২ আধিকারিকের তালিকা পাঠায় নবান্ন। আর তার পরেই গোল বাধে। দাবি করা হয়, নবান্ন যাঁদের নাম পাঠিয়েছে, তাঁদের অনেকেই গ্রুেড-২ পদমর্যাদার আধিকারিক নন। অনেকেই গ্রুপ-সি। এমনকি, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্কের নামও নাকি রয়েছে সেই তালিকায়। এমতাবস্থায়, রাজ্যের পাঠানো প্রায় সাড়ে ৮ হাজার আধিকারিকদের তালিকা নবান্নে ফেরত পাঠালো কমিশন। এবং স্পষ্ট নির্দেশ দিল, প্রত্যেকের নামের পাশে পদমর্যাদা উল্লেখ করে ফের পাঠাতে হবে তালিকা। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে সাড়ে ৮ হাজারের মধ্যে কতজন গ্রুেড-২ আধিকারিক রয়েছেন।
ফের সুপ্রিমে দ্বৈরথ?
আইনজ্ঞ মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, একবার যদি ঝোলা থেকে বেড়াল বেরোয়, রাজ্যের পাঠানো তালিকায় কতজন গ্রুেড-২ আর কতজন নয়, তা একেবারে দুধ-কা-দুধ আর পানি-কা-পানি হয়ে যাবে। এবং সে ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতে ডাহা মিথ্যা কথা বলার জন্য চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে রাজ্য তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের। কারণ, ভিনরাজ্যের মাইক্রো অবজারভারদের ডানা ছাঁটার আবেদন করে তাঁরা আদালতে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যের তরফে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গ্রুেড-২ আধিকারিক দেওয়া হবে কমিশনকে।
অতঃকিম?
সুপ্রিম-ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হতে পারে রাজ্য তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের। এবং সেই সঙ্গে ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজার্ভারদের ছেঁটে-দেওয়া ডানায় ফের পালক গজাতে পারে।