‘চুরি ধরা পড়া গিয়েছে।’ সিইও দফতরে ঢোকার আগে বলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। ...
‘চুরি ধরা পড়া গিয়েছে।’ সিইও দফতরে ঢোকার আগে বলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। বলেন, 'বস্তা করে ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে জমা দিয়েছে কয়েকজন।' অভিষেকের অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ জানাতে আজ, মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মঙ্গলবার রাতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেই এই সফর। ফর্ম ৬ জমা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার রাতে অভিষেক সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। কমিশনের নিয়ম মেনে ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়লে কমপক্ষে ৬০০ জনকে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি কমিশনকে। তাহলেই তো সব স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কমিশন সদুত্তর দিতে পারেনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বস্তা করে ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে জমা দিয়েছে। ফর্ম-৮ ফর্ম পূরণ না করে সরাসরি কমিশনের দফতরে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানে ফর্ম-৬ পূরণ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ভোটার যোগ করা হচ্ছে। কিছু ভোটার বাদ দিয়ে, কিছু যোগ করে ভোট করাই বিজেপির পন্থা। এ ভাবেই মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে জিতেছে এরা। এ বার বাংলাতেও সেই চেষ্টা হচ্ছে।’’ অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, ‘‘ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দু’সপ্তাহের মধ্যে ৩৯৫ জন সরকারি আধিকারিককে বদল করেও যখন সুবিধা করা যাচ্ছে না, তখন এই পন্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাংলাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলাকে যদি বাংলাদেশ হিসাবে কেউ দেখে থাকে, সেটা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।’’
উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অবস্থান। সব মিলিয়ে ভোটের আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে।