প্রথম ইনিংস শেষ। এসআইআর-পর্বে এবার শুনানির জন্য ২০ লাখকে ভোটারকে নোটিস পাঠিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করল নির্বাচন কমিশন। এবং সেই শুনানিতে 'নজরদারি'র জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ...
প্রথম ইনিংস শেষ। এসআইআর-পর্বে এবার শুনানির জন্য ২০ লাখকে ভোটারকে নোটিস পাঠিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করল নির্বাচন কমিশন। এবং সেই শুনানিতে 'নজরদারি'র জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ও বিশেষ রোল-পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-র উপস্থিতিতে মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ শুরু হল বুধবার। কলকাতার নজরুল মঞ্চে।
কারা হচ্ছেন মাইক্রো অবজারভার?
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে বেছে নিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আধিকারিকরাও। দক্ষিণ পূর্ব রেল থেকে শুরু করে মেট্রো রেল, কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর, এলআইসি, কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি-র আধিকারিকরা এই মাইক্রো অবজারভারের দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। শুনানি পর্বে সাড়ে ৩ হাজার মাইক্রো অবজারভার 'নজরদারি'র কাজে থাকবেন। নথি-পত্র খতিয়ে দেখবেন। ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ রাখতে যা-যা করণীয়, ঠিক তা-ই করবেন তাঁরা। এছাড়া, আরও ১ হাজার আধিকারিক তৈরি থাকছেন। প্রয়োজন পড়লে তৎদণ্ডে তাঁদের মাঠে নামানো হবে।
প্রসঙ্গত, বিএলও-দের ডিজিটাইজ করা এনমারেশন ফর্ম ও তার সঙ্গে যাবতীয় নথি যাচাই করবেন এই অবজারভাররা। শুনানি-পর্বে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত হাজির থাকবেন তাঁরা। কোথাও কোনওরকম ত্রুটি চোখে পড়লে তৎক্ষণাৎ তা ইআরও-দের নজরে আনবেন।
এদিন হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কাদের ডাকা হবে শুনানিতে?
চলতি মাসের ১৬ তারিখ খসড়া তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল, মৃত ও ডুপ্লিকেট (Absent, Shifted, Dead, Duplicate)-এর সংখ্যা দাঁড়ায় কমবেশি ৫৮ লাখে। এছাড়া, খসড়ায় নাম থাকলেও, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি কমবেশি ৩০ লাখ ভোটারের। শুনানিতে ডাকা হচ্ছে তাঁদের। এবং, কমবেশি ১ কোটি ৩৬ লাখ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকলেও, তাঁদের নথি-পত্র নিয়ে এখনও পুনর্যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই তালিকায় কারা রয়েছেন? ১, এমন কোনও নাম যদি চোখে পড়ে, যাঁকে বাবা অথবা দাদু হিসেবে দেখিয়েছেন ছজন বা তার বেশি ভোটার। ২, এনুমারেশন ফর্ম ভরতি করে জমা দেওয়ার সময়ে কোনও ভোটার একজনকে বাবা হিসেবে দেখিয়েছেন কিন্তু ২০০২ সালের এসআইআর-এ অন্য কাউকে বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ৩, সন্তান ও বাবার বয়সের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকলে। অর্থাৎ, 'নাবালক বাবার সাবালক ছেলে' হলে, ৫ বা ১৫ বছর বয়সে কেউ 'বাবা' হলে।