নজিরবিহীন বললেও কম বলা হয়। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযানের শেষ পর্ব সম্পন্ন হবে কার্যত কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে। এবং নিম্ন আদালতের বিচারকরা জুডিসিয়াল অফিসার হয়ে পুরো বিষয়টি তদারক কর...
নজিরবিহীন বললেও কম বলা হয়। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযানের শেষ পর্ব সম্পন্ন হবে কার্যত কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে। এবং নিম্ন আদালতের বিচারকরা জুডিসিয়াল অফিসার হয়ে পুরো বিষয়টি তদারক করবেন। তাঁদের কথাই চূড়ান্ত। এবং সে অর্থে 'সুপ্রিম'।
এদিন এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, "এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগকে যে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইতে ঐতিহাসিক জয়। বাংলার মানুষ, যাঁরা বৈধ ভোটার, যাঁদের নাম কাটার চক্রান্ত চলছে, বাংলার উপর মৃত্যুর মিছিল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা করা হয়েছে, বয়স্ক-অসুস্থদের লাইনে এনে দাঁড় করানো হচ্ছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে একের-পর-এক লোককে ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে লড়াই লড়েছিল, কার্যত সেই লড়াই মান্যতা পেলো। বিজেপির ঠিক করে দেওয়া জাতীয় নির্বাচন কমিশনের লোক নয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়, আপত্তি, নিষ্পত্তি করবেন জুডিসিয়াল অফিসাররা। অবশ্যই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরদারিতে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট যে-নির্দেশ দিল, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের স্বার্থে যা চেয়েছে, তা মান্যতা পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তাই এটা একটা ঐতিহাসিক জয়"।
বঙ্গবিজেপি শিবির অবশ্য রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের উপরই দায় ঠেলেছে। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, "সুপ্রিম কোর্ট তো স্পষ্ট বলেছে তার পর্যবেক্ষণে, ক্লাস-এ বাংলাভাষি আধিকারিকরা থাকলে এই সমস্যা হতো না। তাঁরা ভালো ভাবে বাংলা পড়তে পারতেন, বলতে পারতেন। তাতে করে পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত ভালো হতো। ইচ্ছে করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আধিকারিকদের দেননি (কমিশনের অধীনে কাজ করার জন্য)। অন্য রাজ্যে তো সব ঠিকঠাক তালিকা বেরিয়ে গেলো, আমাদের রাজ্যেই শুধু হচ্ছে না। দায়িত্ব কার, রাজ্য সরকারের। কারণ, রাজ্যের আধিকারিকরাই তো ইআরও, এইআরও। মাইক্রো অবজার্ভারদের তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাহলে যা ঘটছে, তা রাজ্যের আধিকারিকদের দক্ষতার অভাবেই ঘটছে"।