পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় এসআইআইর শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। লক্ষ্মীপুজোর পরই ঘোষণা করা হতে পারে দিনক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে, পরীক্ষা শুরুর মুখে জানা যাচ্ছে, এসআইআর-এর জন্য পর্যাপ্ত রাজ্য সরকারি...
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় এসআইআইর শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। লক্ষ্মীপুজোর পরই ঘোষণা করা হতে পারে দিনক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে, পরীক্ষা শুরুর মুখে জানা যাচ্ছে, এসআইআর-এর জন্য পর্যাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী নেই!
এখন উপায়?অগত্যা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে জানাচ্ছেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী অভিযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত সরকারি কর্মচারী নেই। রাজ্যজুড়ে অন্তত ৮০০ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর প্রয়োজন। আনুষাঙ্গিক কাজের জন্য আরও ১০০ জনের প্রয়োজন। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না-করলে এসআইআর চালু করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে। সূত্রের খবর, সোমবারই এই মর্মে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, ইআরও (ERO) ও এইআরও (AERO) পদে স্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের ডেপুটেশনে নেওয়া হবে ঠিকই। কিন্তু, ডেটা এন্ট্রির জন্য করণিক বা তার সমতুল্য পদের যতজন কর্মচারী প্রয়োজন, রাজ্য সরকার তা জোগাতে পারবে না। জোগাতে গেলে, রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম লাটে উঠবে। এই পরিস্থিতিতে, পর্যাপ্ত ও দক্ষ কর্মী না-পাওয়া গেলে, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়়ে চাপবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্থায়ী পদে সরকারি নিয়োগ আর সেভাবে হচ্ছে না। শুধু বাংলা নয়, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্য, এমনকি, কেন্দ্রীয় সরকারও ক্রমশ চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের পথে চলছে। রেল-সহ বিভিন্ন দফতরে অসংখ্য শূন্যপদ রয়েছে। আর প্যারাডক্স এখানেই যে, নির্বাচন কমিশনকেও এজেন্সির মাধ্যমে অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেট নিয়োগ করতে হবে। নইলে, রাজ্যে এসআইআর শুরু করা সম্ভব হবে না।
বাংলায় বিভিন্ন সরকারি দফতরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এভাবে প্রশাসনের অন্দরমহলকে হাট করে খুলে দেওয়া উচিত কি? চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সে অর্থে কোনও দায়বদ্ধতা থাকে না। যা একজন স্থায়ী কর্মচারীর থাকে। এমতাবস্থায়, এজেন্সির মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এর ফলে যদি তথ্য জালিয়াতি হয়? যদি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার-পথে অন্যত্র চলে যায়? তাহলে?
কমিশন সূত্রে অবশ্য জানা যাচ্ছে, এতটুকু বেচাল দেখলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। তবু, প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, এত দ্রুত আট-ন'শো দক্ষ কর্মী পাওয়া যাবে কোন এজেন্সি থেকে? যদি তা পেতে দেরি হয়, তাহলে কি বাংলায় এসআইআর পিছিয়ে যাবে?
উত্তর জানা নেই। তবে, কেন্দ্র-রাজ্য নির্বিশেষে স্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ কমিয়ে দিয়ে, শূন্য পদে নিয়োগ না-করে, কী বিপদ ডেকে এনেছে, তা হাড়ে-হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে এখন।