নির্বাচন কমিশন সরাসরি ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে রবিবার রাতে। প্রসঙ্গত, যে-চারজন আধিকারিকের নামে এফআইআর-এর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন, এই ৭ জনের মধ্যে তাঁরা কিন্তু কেউ নেই। যার সহজ সরল অর্থ হল, রাজ্যের...
নির্বাচন কমিশন সরাসরি ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে রবিবার রাতে। প্রসঙ্গত, যে-চারজন আধিকারিকের নামে এফআইআর-এর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন, এই ৭ জনের মধ্যে তাঁরা কিন্তু কেউ নেই। যার সহজ সরল অর্থ হল, রাজ্যের উচ্চপদস্থ ১১ জন আধিকারিক জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়লেন।
এমতাবস্থায় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, ওই সরকারি আধিকারিকদের সার্ভিস বুকে যে 'দাগ' পড়লো, তা সহজে ওঠার নয়। এবার তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, "ওরা (কমিশন) যত ডিমোশন করবে, আমরা তত প্রোমোশন করবো"।
সোমবার রাতেই ৭ জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়েন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের এবার কী বার্তা দেবেন? উত্তরে তিনি বলেন, "বার্তা একটাই, নিয়ম মেনে কাজ করুন। মনে রাখবেন, কেউই অসীম ক্ষমতাশালী নন"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অতি সংক্ষেপে যা বার্তা দেওয়ার তা দিয়ে দিলেন এদিন। এবার ভোট ঘোষণার পর আদর্শ নির্বাচন বিধি চালু হলে রাজ্যের কোনও আমলা বা পুলিস কর্তা কমিশনের নির্দেশকে হালকা ভাবে নিতে পারবেন না। এমনকি, সে ক্ষেত্রে যদি নবান্ন-র রোষে পড়তে হয়, তা-ও পড়তে রাজি আছেন তাঁরা। অন্তত তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
নবান্ন থেকে কমিশনকে তোপ
মঙ্গলবার বিকেলে নবান্ন থেকে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "চাইলে ঘেরাও করে রাখতে পারি। কিন্তু করিনি। নিজেদের ক্ষমতার পরিধির মধ্যে কাজ করুন। ৭ জন এইআরওকে সাসপেন্ড করলেন। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটুকুও দিলেন না। একজন চোরও কিন্তু আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়। সোজা আঙুলে ঘি উঠছে না, বাঁকা আঙুলে ঘি তোলার চেষ্টা করছেন"।
৭ জন ইআরও, কী অভিযোগ ?
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, " এই প্রথম কমিশন তার নিজের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করলো। যে-সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা জেনেশুনেই ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন, প্যান কার্ড গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ১৩ টি নির্দেশিকা অমান্য করেছেন ওঁরা। মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ইশারাতে। ওঁকে দিয়েই ব়্যাকেট চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনোজ পন্থ থেকে শুরু করে নন্দিনী চক্রবর্তী, কমিশন থেকে কোনও নির্দেশ এলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান আগে। তারপর তাঁর কথা মতো কাজ করেন। অন্যরাজ্যে এমনটা হয় না। এমনকি, লোকসভা নির্বাচনের আগে কমিশনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীও হস্তক্ষেপ করেন না"।