উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে বছরের পর বছর যে সমর্থন দিয়েছেন, এবার সেই ‘ঋণ শোধের’ সময় এসেছে— কার্শিয়াংয়ের মাটি থেকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক দিনের পাহাড় সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, তাঁর পাহাড় সফরের উদ্দেশ্য শুধুই রাজনৈতিক উপস্থিতি নয়, বরং উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরি করা।
মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের জনসভায় শুভেন্দু বলেন, পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাঁর সরকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পূর্ণ বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, "আমি পাহাড়ে বেড়াতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি।" উত্তরবঙ্গে বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে পাহাড় বারবার পদ্মফুলকেই বেছে নিয়েছে। তাই এখন মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার আশ্বাসও দেন তিনি।
একই সঙ্গে আগের সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনা ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, পাহাড়ের উন্নয়নের বদলে তৃণমূল আমলে কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিটিএ-র আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং যাঁরা সরকারি অর্থ লুট করেছেন, তাঁদের আইনের মুখোমুখি করা হবে। শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, পাহাড়বাসীর জন্য একাধিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, বন্ধ চা-বাগান খুলে দেওয়া, পুলিশে স্বচ্ছ নিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি, গোর্খা আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া "মিথ্যা মামলা" প্রত্যাহারের বিষয়েও আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে ২০০৯ সাল থেকে টানা বিজেপির জয় উত্তরবঙ্গে দলের রাজনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করেছে। সেই রাজনৈতিক সমীকরণকেই সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেবে তাঁর সরকার। কার্শিয়াংয়ের সভা থেকে সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।