একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরিবারকে। নিউ আলিপুরের ফ্ল্যাটে পুলিশি তল্লাশি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন ...
একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরিবারকে। নিউ আলিপুরের ফ্ল্যাটে পুলিশি তল্লাশি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন অরূপের ভাই এবং তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে নিউ আলিপুর থানায় দায়ের হয়েছে একটি গুরুতর এফআইআর। অভিযোগ, রাস্তার ধারে একটি ছোট খাবারের স্টল বসানোর অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক মহিলার কাছে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে কুপ্রস্তাব দেওয়ারও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা গত ১৪ জুন নিউ আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের গোড়ায় নিউ আলিপুর এলাকায় একটি স্ট্রিট ফুড কার্ট চালু করার পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, এই ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কাউন্সিলরের নেই, বরং বিষয়টি দেখেন স্বরূপ বিশ্বাস।
এরপরই স্বরূপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই মহিলা। অভিযোগ, অনুমতির পরিবর্তে তাঁর কাছে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি, নিউ আলিপুরের একটি ক্লাবে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। তাঁর অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিনিময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
এই অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তি পাওয়ার পরই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং মহিলার মর্যাদাহানির মতো গুরুতর বিষয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক ও তদন্তের মুখে থাকা তৃণমূল শিবিরের জন্য এই অভিযোগ নতুন করে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে— তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং এই অভিযোগ আদালতে কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটাই দেখার।