আবেদন নিবেদনে কাজ না-হওয়ায় সরাসরি ৭ জন ইআরওকে সাসপেন্ড করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল রীতিমতো উত্তপ্ত। এছাড়া, আরও চারজনের নামে এফআইআর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক...
আবেদন নিবেদনে কাজ না-হওয়ায় সরাসরি ৭ জন ইআরওকে সাসপেন্ড করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল রীতিমতো উত্তপ্ত। এছাড়া, আরও চারজনের নামে এফআইআর করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজ্যের অধীনে কর্মরত ১১ জন আধিকারিকের সার্ভিস বুকে যে-'দাগ' লাগলো, কর্মজীবনে তার খেসারত তাঁদেরই দিতে হবে। ভবিষ্যতে পদোন্নতি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে তাঁদের। এমতাবস্থায়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বার্তা দিলেন, "নিয়ম মেনে কাজ করুন, কেউই অসীম ক্ষমতাশালী নন"।
৭ জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা নিয়ে এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়েন মনোজ আগরওয়াল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের এবার কী বার্তা দেবেন? উত্তরে তিনি বলেন, "বার্তা একটাই, নিয়ম মেনে কাজ করুন। মনে রাখবেন, কেউই অসীম ক্ষমতাশালী নন"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অতি সংক্ষেপে যা বার্তা দেওয়ার তা দিয়ে দিলেন এদিন। এবার ভোট ঘোষণার পর আদর্শ নির্বাচন বিধি চালু হলে রাজ্যের কোনও আমলা বা পুলিস কর্তা কমিশনের নির্দেশকে হালকা ভাবে নিতে পারবেন না। এমনকি, সে ক্ষেত্রে যদি নবান্ন-র রোষে পড়তে হয়, তা-ও পড়তে রাজি আছেন তাঁরা। অন্তত তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, " এই প্রথম কমিশন তার নিজের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করলো। যে-সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা জেনেশুনেই ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন, প্যান কার্ড গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ১৩ টি নির্দেশিকা অমান্য করেছেন ওঁরা। মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ইশারাতে। ওঁকে দিয়েই ব়্যাকেট চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনোজ পন্থ থেকে শুরু করে নন্দিনী চক্রবর্তী, কমিশন থেকে কোনও নির্দেশ এলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান আগে। তারপর তাঁর কথা মতো কাজ করেন। অন্যরাজ্যে এমনটা হয় না। এমনকি, লোকসভা নির্বাচনের আগে কমিশনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীও হস্তক্ষেপ করেন না"।