তিনবছর আগের কথা। পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা হয়েছে সবেমাত্র। মনোনয়ন জমার পর্বও শুরু হয়নি। ভাঙড়ে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক হিংসা। বোমাগুলি, রক্তারক্তি, কিছুই বাদ গেল না। তার দু-বছর আগে, আরাবুল-অধ্যুষিত ভাঙড়ে ...
তিনবছর আগের কথা। পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা হয়েছে সবেমাত্র। মনোনয়ন জমার পর্বও শুরু হয়নি। ভাঙড়ে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক হিংসা। বোমাগুলি, রক্তারক্তি, কিছুই বাদ গেল না। তার দু-বছর আগে, আরাবুল-অধ্যুষিত ভাঙড়ে তৃণমূলকে পরাস্ত করে জয়ী হয়েছেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকি। এমতাবস্থায়, পঞ্চায়েতে জমি উদ্ধার ও জমি ধরে রাখার দ্বৈরথে রাজনৈতিক হিংসা লাগাম ছাড়িয়ে গেল। ভোট যত এগিয়ে এল, তত বেশি করে রক্তারক্তি, মারামারি, রাতদুপুরে বোমাবাজির খবর আসতে থাকল ভাঙড় থেকে। এবং, ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত ভাঙড় যেন 'গ্যাংস অব ওয়াসেরপুর' হয়ে উঠল।
অশান্ত ভাঙড়কে শান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুলিসের এক্তিয়ারে নিয়ে এলেন ওই এলাকাকে। লোকসভা ভোটে ভাঙড় থেকে বড়সড় কোনও হিংসাত্মক খবর পাওয়া গেল না ঠিকই। কিন্তু, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ রারুদ উদ্ধার হতে থাকল ভাঙড় থেকে। বোঝা গেল, ভাঙড় রয়ে গিয়েছে ভাঙড়েই।
শুধু তা-ই নয়। ভাঙড়ের ভেড়ির জল আরও নোনা হয়ে উঠল শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের কারণে। তৃণমূলের তাজা নেতা আরাবুল ইসলাম আইএসএফ-এ যোগ দিলেন। অন্যদিকে, সওকত মোল্লাকে ক্যানিং থেকে ভাঙড়ে নিয়ে এসে প্রার্থী করল তৃণমূল। ফের রাজনৈতিক হিংসা। ছাব্বিশের বিধানসভায় ভোট-পর্ব শুরু হওয়ার পর খুব কম জায়গায়তেই কিন্তু রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু, সেখানেও ব্যতিক্রম ভাঙড়। তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত আরাবুল, পাল্টা আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ চলতেই থাকল।
এমতাবস্থায়, দ্বিতীয় দফার ভোটে হিংসাত্মক ভাঙড়ে অহিংস দুর্গ গড়ে তুলছে কমিশন। এদিন কমিশন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে কলকাতার পুলিস কমিশনার অজয় নন্দ জানান, এদিন, কমিশন-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরনোর পর কলকাতার পুলিস কমিশনার অজয় নন্দ সাংবাদিকদের জানান, ১৬০ টা মোটরবাইক টহলদারি দেবে ভোটের দিন (২৯ তারিখ)। প্রতি টহলদার টিমে ৩ থেকে ৪ টে মোটরবাইক থাকবে। এবং, প্রতি বাইকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একজন করে জওয়ানও থাকবেন। সঙ্গে থাকবেন কলকাতা পুলিসের কর্মী-আধিকারিকরা। যাঁরা অলিগলি চিনিয়ে দেবেন।"
পর্যবেক্ষকরা হিসেব করে দেখছেন, ১৬০ খানা টহলদারি দলে যদি তিন-চারটে করে বাইক থাকে, তাহলে বলা যেতে পারে, মোটের উপর শ-পাঁচেক বাইক কলকাতা দাপিয়ে বেড়াবে ভোটের দিন। এবং, কমিশনের এই বাইকবাহিনীর সামনে রাজনৈতিক দুষ্কৃতীদের বাইকের হাওয়া খুলে যেতে বেশি সময় লাগবে না।
বুথপিছু ২ টি সিসি ক্যামেরা ছাড়াও আরও অসংখ্য ক্যামেরার চোখ থাকবে অলিগলির পাকস্থলির দিকে। কলকাতার পুলিস কমিশনার অজয় নন্দ-র কথায়, "ভোটারদের একটাই বার্তা, ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিন"।
হিংসাপ্রবণ ভাঙড়ের জন্য কার্যত একটি আলাদা টিম তৈরি করেছে কলকাতা পুলিস। কমিশনের বিশেষ নজরদারির মধ্যে থাকবে ভাঙড়। গোলাবারুদ আর বোমাবন্দুকের ভাঙড়ে কলকাতা পুলিসের সঙ্গে থাকবে স্নিফার ডগ!