জনতার রোষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে থানা হেফাজতে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই পরি...
জনতার রোষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে থানা হেফাজতে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্থানীয়দের একাংশ মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়েন। একই সঙ্গে ওঠে ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হালিশহরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে গিয়েছেন মমতা।
বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বলেন, "আমার তো মাথা ফেটে যেত। আমরা সবাই মরে যেতাম। পুলিশের সামনে এমন হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে বিজেপিকেই সুরক্ষা দিচ্ছে।" ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল এবং এর পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর হাত রয়েছে।
এর মধ্যেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে মৃত বিরজু কেওটের বাড়িতে প্রবেশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং গোটা ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পুলিশি হেফাজতে বিরজুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। সম্প্রতি হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।