"যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে-দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা থাকে" বলে দাবি করেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে যার পাল্টা দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "পড়ুয়াদের প্রতিব...
"যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে-দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা থাকে" বলে দাবি করেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে যার পাল্টা দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "পড়ুয়াদের প্রতিবাদ গণতন্ত্রের ভাঙন নয়, বরং সেটাই গণতন্ত্র"।
বাংলায় দ্বিতীয় দফার অতি-হেভিওয়েট ভোটের আগে যাদবপুর-চর্চার আবহে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবার দাবি করে বসলেন, "দেশদ্রোহীর মতো আচরণ করছে তৃণমূল সরকার"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ছাব্বিশের বিধানসভার দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও তার আশপাশের শ-খানেক আসন জয় করতে মরিয়া বিজেপি এবার নিশানা করছে 'টুকরে-টুকরে গ্যাং'কে। গেরুয়া শিবিরের পরিভাষায় যাঁরা 'আরবান নকশাল'। এবার সেই শহুরে বাম ও অতিবামকে এবার নিশানা করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীর কথায় যাঁরা 'আন্দোলনজীবী'।
কেন?
রাজনৈতিক মহলের একাংশ এর একটা যুতসই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। দ্বিতীয় দফায় যাঁরা ভোট দেবেন, তাঁরা কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের ভোটার। যাঁদের একটা বড় অংশই বাম-ঘেঁষা। কেউ-বা আবার বিজেপি-বিরোধিতা করতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন। এমতাবস্থায়, 'দেশদ্রোহী', 'আরবান নকশাল', 'টুকরে-টুকরে গ্যাং', 'আন্দোলনজীবী'-র আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর ও উত্তরবঙ্গে যত সহজে মেরুকরণের রাজনীতি করা যায়, কলকাতার যাদবপুর কিংবা সল্টলেকে তা সম্ভব নয়। বরং, এখানে হিন্দুত্ববাদের সুর চড়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে। সেই কারণেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী।
কী বললেন হিমন্ত?
এদিন নিউটাউনের একটি হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করলেন, "দেশদ্রোহীর মতো আচরণ করছে তৃণমূল সরকার"। যদিও তার কারণ হিসেবে যা বলেছেন তিনি, তা একপ্রকার চর্বিত-চর্বণ ছাড়া কিছুই নয়। হিমন্তের দাবি, অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের যে-বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া দরকার, তার জন্য জমি দিচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবং, কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত রাজ্যের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন আমলাকে জরিমানা করেছেন সম্প্রতি, সেই বৃত্তান্তও ঘটা করে সামনে আনলেন তিনি।
পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, যদি ধরেও নেওয়া যায় যে, প্রথম দফার ভোটে বিজেপি খুব ভালো ফল করবে, তাহলে দ্বিতীয় দফার ভোটে গেরুয়া শিবিরের পথের কাঁটা কিন্তু 'আরবান নকশাল' ও 'আন্দোলনজীবী'রা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যার প্রতীক মাত্র। 'দেশদ্রোহিতা' যার ভাষ্য মাত্র।
এবার 'কোর এলাকা'য় ঢুকছে বিজেপি?
এদিন ইকোপার্ক থেকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে বলতে শোনা যায়, "প্রথমদফার ভােটে কয়েকঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল বুঝে গিয়েছিল, ওরা হারছে। এবার (দ্বিতীয় দফার ভোটে) আমরা ওদের কোর এলাকায় আমরা ঢুকছি"।