সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিয়ো। বহরমপুরের তৃণমূল নেতা ভোটারদের দরজায় গিয়ে রীতিমতো শাসাচ্ছেন এবং তৃণমূলকে ভোট না-দিলে কী পরিণতি হবে তা পষ্টাপষ্টি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। অবশেষে কমিশনের নজরে আসে বিষয়ট...
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল সেই ভিডিয়ো। বহরমপুরের তৃণমূল নেতা ভোটারদের দরজায় গিয়ে রীতিমতো শাসাচ্ছেন এবং তৃণমূলকে ভোট না-দিলে কী পরিণতি হবে তা পষ্টাপষ্টি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। অবশেষে কমিশনের নজরে আসে বিষয়টি এবং শ্রীঘরে ঠাঁই হয় ওই তৃণমূল নেতার।
ভাইরাল ভিডিয়ো
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি সিএন ডিজিটাল)-তে রাজু মণ্ডল নামে ওই তৃণমূলের মেজ-সেজ এক নেতা, সদলবলে ভোটারের দোরগোড়ায় গিয়ে বলছেন:
" পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট গন্ডগোল হয়েছে, বাড়িতে আমি রসগোল্লা, ছানাবড়া পাঠিয়ে দেবো। আর আমাদেরকে জিতিয়ে যদি কাজ করাতে হয় প্রত্যেকটা বিষয়ে, পাড়ার ছেলে, পাড়ার লোক, যাঁরা মানুষের পাশে থাকে ২৪ ঘণ্টা, তাদেরকে ভোট দিতে হবে। এ বছর যেন ভোট নষ্ট না-হয়, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। খাতায় এন্ট্রি করা থাকবে, কোন বাড়ির কে ভোট দিচ্ছে, আমাদের ক্যামেরা থাকবে, এবার যা ভোট হবে সব লাইভ হবে"।
শ্রীঘরে ঠাঁই তৃণমূল নেতার
নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে ভিডিয়োটি। এবং, কমিশনের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর বিধানসভার ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কমিশন জানিয়েছে, ধৃতের নাম রাজু মণ্ডল, তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
অহিংস ও ভয়শূন্য ভোট
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জ্ঞানেশ কুমারের দাওয়াই ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ভোট ঘোষণার অনেক আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। ওই বাহিনীকে যাতে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে কমিশন। দুদিনের বঙ্গসফরে এসে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার খুব তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছেন, "রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের তপোভূমিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন আবারও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটারকে বার্তা দিতে চায়, নির্বাচন হবে অহিংস (Violence Free) এবং ভয়শূন্য (Intimidation Free)"। পর্যবেক্ষকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন দ্বিতীয়টির উপর। যে-চোখরাঙানি চোখে দেখা যায় না, যে-হুমকি কানে শোনা যায় না, একেবারে ঠিক সেই জায়গাতেই জোর দিয়েছেন তিনি: 'ইন্টিমিডেশন ফ্রি (Intimidation Free)'। বুথের ভিতর যতটা নজর কমিশনের, ঠিক ততটাই নজর বুথের বাইরে। রাজ্যের আমলা ও পুলিস কর্তাদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, শুধু ভোটের দিন কোথাও কোনও রক্তপাত হবে না, তা নয়, 'নিঃশব্দ অদৃশ্য সন্ত্রাস'ও এবার আর বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে ধমক দিয়ে তিনি বলেছেন, "সব জানি, বসুন"। বেশ কয়েকজন জেলাশাসককে সতর্ক করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সব কাজের 'ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট' রয়েছে ও রয়ে যাবে, তাই, বেচাল দেখলে ভোট-পর্ব শেষ হওয়ার পরেও পদক্ষেপ করবে কমিশন।