সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কেন এত নাম বাদ যাচ্ছে, মূলত এই প্রশ্নে এদিন সিইও দফতের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করল তৃণমূল। এই বিক্ষোভের মাঝেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করল...
সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কেন এত নাম বাদ যাচ্ছে, মূলত এই প্রশ্নে এদিন সিইও দফতের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করল তৃণমূল। এই বিক্ষোভের মাঝেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করলে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের সঙ্গে দেখা গেল শশী পাঁজা ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকলেন তৃণমূল কর্মীরা। কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে ফেলল গোটা তল্লাট। এমতাবস্থায়, সিইও দফতর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, কমিশনের স্নায়ুর চাপ বাড়ানো ছাড়া সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই রাজ্যের শাসকদলের কাছে। বাংলার এসআইআর শুরু হওয়ার সময় থেকেই কমিশনকে 'বিজেপির দালাল' বলে আক্রমণ করে চলেছে তৃণমূল। একদিকে লক্ষ-লক্ষ নাম বাদ। অন্যদিকে, রাজ্যের শীর্ষস্তরে কম করে ৫০ জন আমলা-পুলিস বদলের পর ১৭ টি জেলার ৮৩ জন বিডিও-কে বদলি করে কমিশন।
বিরোধীদের অনেকেই এতদিন দাবি করে আসছিলেন, "এসপি নন, ভোট করান আইসি-রা"। তাই থানাস্তরে বদল না-হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট কখনওই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, বিরোধীদের অভিযোগ সিলমোহর দিয়ে থানাস্তরে ১৪২ জন আধিকারিককে বদল করল কমিশন। এখনও অবধি তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, মোটের ওপর তাঁরা সবাই ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। যাঁরা বিভিন্ন থানার ওসি বা আইসি পদের দায়িত্ব রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকদের কাছে যা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, এই বদলের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদরে মধ্যে অনেকেই সিআইডি বা আইবি-তে কোনও-না-কোনও দায়িত্বে রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিস কর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে পাবলিক-পালস বুঝতে গোয়েন্দাগিরির করে সরকারকে রিপোর্ট দেন আইবি ও সিআইডি-র আধিকারিকরাই।
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পুলিস ও পুলিস জেলায় এই রদবদল হয়েছে। এই বদলের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিসের ইনস্পেক্টর পদমার্যাদার ৩১ জন। যাঁরা কলকাতার বিভিন্ন থানার ওসি বা 'বড়বাবু'।