হাওয়া খুব-একটা ভালো নয়। টানা ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর রাজনীতির নিয়মেই সরকার বিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত 'বাদ' যেতে থাকা নামের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ব...
হাওয়া খুব-একটা ভালো নয়। টানা ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর রাজনীতির নিয়মেই সরকার বিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত 'বাদ' যেতে থাকা নামের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। এবং, প্রথম ও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে এই ৩৭ লক্ষের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নামই বাদ গিয়েছে। কমিশন-সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারিতে ১০ লক্ষের নাম ছিল, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারিতে ১২ লক্ষের নাম রয়েছে। সবমিলিয়ে, এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৩৭ লক্ষের মধ্যে ১৫ লক্ষের নাম 'বাদ' পড়েছে!
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, 'বাদ' পড়া ১৫ লক্ষ চাইলে ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন। এবং, তৃণমূল সুপ্রিমো ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, 'বাদ' পড়াদের পাশে থেকে তাঁর দল নিখরচায় আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। ট্রাইবুনালে বিচারক হিসেবে কার থাকবেন তা ঠিক হলেও, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত কোথায় কোথায় সেই বিচারকরা বসবেন, তা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি। কমিশনের বক্তব্য, রাজ্য যদি তাদের বিভিন্ন দফতরে ট্রাইবুনালের জ্ন্য জায়গা দেয়, তাহলে ভালো। নইলে, টেন্ডার ডেকে বাড়ি ভাড়া করতে হবে। আর ৩ সপ্তাহ বাদেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। এখনও ঠিক হয়নি, মনোনয়ন-পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে রীতি মনে, নাকি, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নাম তোলার অবকাশ রাখবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্য ও রাজ্যের শাসকদল সুপ্রিম কোর্টে যে-সওয়াল করেছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই জটিলতা। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলেই তাঁরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি যে-কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন, সেই কমিটিই সব ঠিক করবে।