বঙ্গ রাজনীতিতে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর 'সুমধুর' সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। প্রকাশ্য জনসভা থেকে একাধিকবার শুভেন্দুর মুখে বিমান বসুর প্রশংসা শোনা গিয়েছে গত কয়েকবছরে। যার ফলে সংবাদমাধ্য...
বঙ্গ রাজনীতিতে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর 'সুমধুর' সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। প্রকাশ্য জনসভা থেকে একাধিকবার শুভেন্দুর মুখে বিমান বসুর প্রশংসা শোনা গিয়েছে গত কয়েকবছরে। যার ফলে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে কিছুটা বিড়ম্বনাতেও পড়তে হয়েছে বর্ষীয়ান বামনেতাকে। শুধু তা-ই নয়। বামেদের বিরুদ্ধে কিছু খুচরো সমালোচনার বাইরে, শূন্য-মহাশূন্য নিয়ে হালকা চালের কটাক্ষের বাইরে, বড়-একটা বেরোতে দেখা যায় না শুভেন্দুকে। কিন্তু সেলিমে এসেই তাঁর তাল কাটে। এবং বলাই বাহুল্য, সেলিমের মুখেও শুভেন্দুর 'প্রশংসা' শোনা যায় নিয়ম করেই। এমতাবস্থায়, সিপিএমের দলত্যাগী যুব নেতা প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মহম্মদ সেলিমের পাশেই দাঁড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী!
কী বলেছেন শুভেন্দু?
"প্রতীক উর রহমান কে? এপ্রিল মাসের পর ওঁর কোনও নামগন্ধ থাকবে না। মহম্মদ সেলিম আর প্রতীক উর রহমান এক নন", মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রতীক-ইস্যুতে যেভাবে দলের ভিতরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, তখন শুভেন্দু অধিকারী যে তাঁর পাশে এসে দাঁড়াবেন, তা সম্ভবত কল্পানাও করা যায়নি। এখানেই শেষ নয়। প্রতীক উর প্রশ্নে সেলিম বা সিপিএম-কে কাঠগড়ায় না-তুলে শুভেন্দুর পাল্টা দাবি, "এই চুক্তি আজকের নয়। চব্বিশ সালে হয়েছিল" । পর্যবেক্ষকদের বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না, চুক্তি বলতে তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তির কথাই বলতে চেয়েছেন শুভেন্দু। এরপর একেবারে বাম নেতৃত্বের সুরেই সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, "আপনাদের কাজই হচ্ছে কিছু বিড়ালকে বাঘ বানানো। সিপিএমের বাইরে, প্রতীক উর রহমানের কী-এমন রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে"?
প্রতীক নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া সেলিমের?
শুক্রবার আলিমু্দ্দিন স্ট্রিটে দলের কার্যালয় থেকে অবশেষে প্রতীক উর প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া দিয়ে সেলিম বলেন, "খুবই বেদনাদায়ক। নতুন প্রজন্মের কোনও ছেলের পিছনে দলকে অনেক বিনিয়োগ (ইনভেস্ট) করতে হয়। আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রচার, লড়াই। এরপর দল তাঁর থেকে দীর্ঘমেয়াদী ডিভিডেন্ড তোলে। জনগণ তোলে। শ্রেণি আন্দোলন তোলে। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই করেছে দল। সবার ক্ষেত্রে তা-ই করে। আমি যখন রাজ্য সম্পাদক হই, তখন এখান থেকেই বলি, আমাদের কাছে তিরিশটা তেজি ঘোড়া আছে। কয়েকবছরের সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিনশো করবো। তারপর বলেছিলাম, তিনশো হয়ে গিয়েছে, এবার হাজারের দিকে যেতে হবে। সেখানে এই ধরনের একজন কর্মীকে হারানো আমার কাছে সন্তানহারানোর সমতুল্য"।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রতীক উরের সিপিএম থেকে তৃণমূলে রূপান্তরিত হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।