দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক ও প্রিয়া সিনেমা হলকে কেন্দ্রে রেখে এক বিস্তীর্ণ ব্যাসার্ধজুড়ে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বহু পরিচিত মুখ তিনি। কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রতীকে পৌরসভায় দীর্ঘ ইনিংস খেলার পর বিধানসভার...
দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক ও প্রিয়া সিনেমা হলকে কেন্দ্রে রেখে এক বিস্তীর্ণ ব্যাসার্ধজুড়ে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বহু পরিচিত মুখ তিনি। কংগ্রেস ও তৃণমূলের প্রতীকে পৌরসভায় দীর্ঘ ইনিংস খেলার পর বিধানসভার পিচেও তিনি স্বচ্ছন্দে খেলেছেন। একুশের বিধানসভায় রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে ঘাসফুলের প্রতীকে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন এবং এবারও তিনি রাসবিহারী কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবং, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যে-সে কেউ নন, একদা ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক ও বর্তমানে প্রাবন্ধিক বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত।
'তিনি' ত্রিধারা সম্মিলনী-র দেবাশিস কুমার।
রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। এমনকি, প্রথম দফার প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়ে আর বেশিক্ষণ বাকি নেই। এমতাবস্থায়, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে যিনি শাসকদলের প্রার্থী, তাঁকে এখনই কেন তলব করতে হল, প্রশ্ন তুলছে ঘাসফুল শিবির।
এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র তলবে হাজির হন দেবাশিক কুমার। কেন তলব? কার্যত নিরুত্তর থেকে একটাই কথা বলেন তিনি, "আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলবো না। আপনারা ছবি করছেন করুন, আমার আপত্তি নেই। কিন্তু এ বিষয়ে এখন আমার বলার মতো কিছু নেই"।
সূত্রের খবর, বেআইনিভাবে জমি দখল, জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচায় প্রতারণা দেবাশিস কুমারকে তলব করেছে ইডি। যদিও, একইসঙ্গে পুর-নিয়োগ দুর্নীতির কথাও শোনা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, বিধায়ক দেবাশিস কলকাতা পৌরসভার মেয়র পরিষদের অন্যতম সদস্য। দিনকয়েক আগে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি চলে। সূত্রের খবর, ওই দুজনের বয়ানের ভিত্তিতেই কলকাতা পৌরসভার মেয়র পারিষদকে এই তলব।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জানুয়ারি মাসে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশিতে ইডি-র বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্যতম যুক্তি ছিল, কেন বিধানসভা ভোটের আবহেই ইডি-র এই তল্লাশি। যে-মামলায় তদন্ত করছে ইডি, তা অনেকদিন ধরেই চলছে। চাইলে, অনেক আগেই প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালাতে পারতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু জানুয়ারিতে এই তল্লাশি আদতে 'দিল্লির জমিদার'দের কথায়।
জানুয়ারিতে ভোটের আবহে যদি ইডি-কে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাহলে মার্চে, ভোট ঘোষণার পর দেবাশিক কুমারকে তলব আরও বেশি রাজনৈতিক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।