বাংলায় এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাড়াহুড়ো করা যাবে না, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য আরও ১ সপ্তাহ সময় নিতে হবে কমিশনকে। চলতি ফেব্রুয়ারির ১৪ ত...
বাংলায় এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাড়াহুড়ো করা যাবে না, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য আরও ১ সপ্তাহ সময় নিতে হবে কমিশনকে। চলতি ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। আদালতের নির্দেশে তা পিছিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি হল। এমতাবস্থায় পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, রাজ্যের গ্রুপ-বি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচাই-পুনর্যাচাই পর্ব সমাপ্ত করে ২১ তারিখের মধ্যেই কি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব হবে?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, "কেন সম্ভব হবে না"? রাজ্য সরকারের গ্রুপ-বি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন কি শুনানি বন্ধ থাকবে? মনোজের উত্তর, "শুনানি তো প্রায় শেষই হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাজ চলছে। মাইক্রো অবজারভাররা তাঁদের কাজ করবেন। ইআরও-রা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন"।
সোমবার সুপ্রিম-নির্দেশ কিন্তু কমিশনের বিপক্ষে যায় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিই কার্যত মেনে নেওয়া হয়। এমতাবস্থায়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের চোখেমুখে এমন প্রত্যয় আদতে বুঝিয়ে দেয়, কমিশনকে প্যাঁচে ফেলা অত সহজ নয়। অনন্ত তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সোমবার সুপ্রিম-নির্দেশ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জিই সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিল সোমবার। ভিনরাজ্য থেকে আসা কমিশনের মাইক্রো অবজারভারদের ডানা ছেঁটে দিল আদালত। এবং সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে না-থাকবে, তা নিয়ে চূ়ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। সাধারণভাবে মহকুমা শাসক বা এসডিও-রা কমিশনের অধীনে ইআরও-র ভূমিকা পালন করছেন। তবে, চাইলে ইআরও পরিবর্তন করতে পারবে কমিশন। ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভাররা ইআরও-কে কেবল সহায়তা করবেন, তার বেশি কিছু নয়। এবং, রাজ্যের প্রস্তাবিত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গ্রুপ-বি আধিকারিকদের দিয়েই এসআইআর সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
এখানেই শেষ নয়। এত তাড়াহুড়োর মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আরও ৭ দিন সময় নিয়ে তা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। এবং তাদের অ্যাপ যে রীতিমতো খটমট, তা নিয়েও কমিশনকে দু-কথা শুনিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক এটাই চেয়েছিলেন। গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার সওয়াল-জবাবের সময়ে ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভারদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি। এমতাবস্থায়, সোমবারের শুনানির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাজ্য সরকার তাদের সাড়ে ৮ হাজার গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নিয়ে কমিশনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এদিন যখন ওই প্রসঙ্গ ওঠে, তখন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন যে, তাঁরা আগেই চেয়েছিলেন রাজ্য গ্রুপ-বি আধিকারিক দিক, কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য, রাজ্যের কাছে গ্রুপ-বি চেয়ে আবেদনই করেনি কমিশন। এমতাবস্থায়, কমিশনের আইনজীবী বলেন, রাজ্যের এতজন গ্রুপ-বি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ না-দিলে তাঁরা কাজ করতেই পারবেন না। এবং সেই প্রশিক্ষণ দিতে সময় লাগবে। শেষ অবধি ঠিক হয়, মঙ্গলবার থেকেই তাঁরা ইআরও-দের রিপোর্ট করে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।