মাসে দেড়হাজার টাকা। কতটা সুবিধা হবে বলে মনে করছেন?হুগলির তারকেশ্বর বিধানসভার দুটি শিবির তৈরি হয়েছে। একটি তারকেশ্বর পৌরসভায়, অন্যটি তারকেশ্বর বিডিও অফিসে । রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে সকাল থেকেই ভিড় জমতে শ...
মাসে দেড়হাজার টাকা। কতটা সুবিধা হবে বলে মনে করছেন?
হুগলির তারকেশ্বর বিধানসভার দুটি শিবির তৈরি হয়েছে। একটি তারকেশ্বর পৌরসভায়, অন্যটি তারকেশ্বর বিডিও অফিসে । রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছে। শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা যুবসাথীর ফর্ম তুলছেন, এমনকি তা ভরতি করে তৎদণ্ডে জমাও দিচ্ছেন। এমতাবস্থায়, কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই সিএন-এর এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে এই সঞ্জনা বাগচী বললেন, "চাকরির জন্য চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। চাকরির পরীক্ষার দরখাস্ত করতেও তো হাজার-দেড়হাজার বেরিয়ে যায়। তাই মাসে দেড়হাজার করে পেলে সুবিধা তো হবেই"। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, "আমিও একজন নার্সিং পড়ুয়া। চাকরির চেষ্টা করছি। লক্ষ্মীর ভান্ডারে মা-কাকিমাদের উপকার হয়েছে। যুবসাথীতে আমাদের উপকার হবে"।
মালদহের ইংরেজবাজারের তরুণী তিয়াস দাসের মুখেও শোনা গেল একই কথা, "মাসে-মাসে চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছি, এই প্রকল্পের টাকা পেলে সুবিধা হবে। আমি মাস্টার্স করে বিএড-এ ভরতি হয়েছি। দেখা যাক কী হয়"।
এই ভাতা নিতে অস্বস্তি হয় না, কেউ-কেউ তো একে ভিক্ষে বলছে? অর্ঘ্যদীপ দাস স্পষ্টই জানালেন, "একে ভাতা বা ভিক্ষা বলবো না। এই টাকা পেলে সত্যিই খুব সুবিধা হবে। একটা সরকারি চাকরির জন্য ফর্ম ভরতে এক-দেড় হাজার টাকা লাগে। কেউ কেউ টিউশন করে কিছু টাকা পান। তাতেও হয় না। মাসে-মাসে এই টাকা পেলে কারুর কাছে হাত পাততে হবে না অন্তত"।
প্রসঙ্গত, বেকারভাতা পেতে অগস্ট অবধি অপেক্ষা করতে হবে না, এপ্রিলেই চালু হচ্ছে এই ভাতা। গত মঙ্গলবার নবান্ন থেকে আচমকাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের রাজ্য বাজেটে (কার্যত ভোট অন অ্যাকাউন্ট) এই 'যুবসাথী' প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। যে প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে দেড়হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন রাজ্যের মাধ্যমিক পাশ বেকাররা। বয়স হতে হবে চল্লিশ বছরের নিচে। কথা ছিল, চলতি বছরের অগস্ট মাস থেকে চালু হবে এই প্রকল্প। এমতাবস্থায়, এই প্রকল্পের সময় এগিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হচ্ছে, তাই ওই মাস থেকেই চালু করা হবে ওই প্রকল্প।