"এমএ বিএড পাশ করে বসে আছি। চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারছি না। এই দেড়হাজার টাকায় মাসে কী হবে? এই টাকায় সংসার চলবে? বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা রয়েছে। কোনও রোজগার নেই। তাই দায়ে পড়ে এই কাজ (যুবসাথীর ফর্ম ভরতি...
"এমএ বিএড পাশ করে বসে আছি। চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারছি না। এই দেড়হাজার টাকায় মাসে কী হবে? এই টাকায় সংসার চলবে? বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা রয়েছে। কোনও রোজগার নেই। তাই দায়ে পড়ে এই কাজ (যুবসাথীর ফর্ম ভরতি) করতে হচ্ছে", মন্তব্য করলেন মহম্মদ মাহিনুর রহমান।
মালদহের কালিয়াচকে সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বসেছে যুবসাথী প্রকল্পের শিবির। ফর্ম তুলছেন অনেকেই। তারই মাঝে কথা হল মাহিনুরের সঙ্গে। মাস গেলে দেড়হাজার টাকা যে এই বাজারে কী মহার্ঘ্য, রাজ্যের সংখ্যালঘু যুবকের এই মন্তব্যেই তা হাড়ে-হাড়ে টের পাওয়া গেলো।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রবিবার রাজ্যজুড়ে যুবসাথীর ফর্ম তুলতে যে-ভিড় চোখে পড়লো, তার থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হল। এক, রাজ্যে কর্মসংস্থানের হাল খুব-একটা ভালো নয়। এবং সেই কারণেই, মাসে দেড়হাজার টাকার জন্য নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত, জেলায়-জেলায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা বেকারভাতার জন্য ভিড় করছেন।
শুধু তা-ই নয়। মালদহের চাঁচলে এদিন ফর্ম নিয়ে কাড়াকাড়ির যে-দৃশ্য চোখে পড়লো, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সেখানে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য ফর্ম দেওয়ার লাইনে বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেলেন বিধায়ক পর্যন্ত। রবিবার সকাল থেকে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে সেখানে। আগের দিন রাত থেকেই লাইন দিতে শুরু করেছেন যুবক-যুবতীরা। এমতাবস্থায়, কে আগে ফর্ম পাবেন আর কে পরে, অথবা, শেষ অবধি আদৌ ফর্ম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো ধস্তাধস্তি চলল। ফর্ম নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি চলল।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের সঙ্গে পুলিসের বচসার ছবি চোখে পড়লো। দেখা গেলো, রীতিমতো ঘাড় ধাক্কা বার করে দেওয়া হচ্ছে মারমুখী ওই যুবককে। কেন মারমুখী? মাস গেলে দেড়হাজার টাকা পাওয়ার জন্য?
কাটোয়ায় এক প্রৌঢ়া তাঁর ছেলের জন্য যুবসাথীর ফর্ম সংগ্রহ করতে এসে কেঁদে ফেললেন। ছেলে বিটেক পাশ। তবু, ঠিকঠাক চাকরি মেলেনি রাজ্যে। তাই মাস গেলে দেড়হাজার টাকার দাক্ষিণ্যের কাছে মাথা নুইয়েও সংবাদমাধ্যমের সামনে ওই প্রৌঢ়ার উত্তর: ভাতা নয় চাকরি চাই।