রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তবে সম্প্রতি ফের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা চলছে রাজনৈতিক শিবিরে। তারই মধ্যে বুধবার ৫ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ...
রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তবে সম্প্রতি ফের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা চলছে রাজনৈতিক শিবিরে। তারই মধ্যে বুধবার ৫ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন ইউসুফ পাঠান। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ বিজেপির কাছে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
শুভেন্দু 'দা' বলে সম্বোধন করে ইউসুফ পাঠান চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা সংশোধনের জন্য চিহ্নিত লক্ষ লক্ষ ভোটারের সুবিধার্থে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোর্ট গঠন করা হোক। এমনটাই আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন বহরমপুরের লোকসভার সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে ইউসুফ পাঠান দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার পর প্রায় ২৭ থেকে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে অথবা সংশোধনের জন্য চিহ্নিত হয়েছে। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এই সমস্ত নাগরিককে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চিঠিতে সাংসদের দাবি, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য সীমিত সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, মহিলা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের দূর-দূরান্তে যাতায়াত করতে হলে অতিরিক্ত আর্থিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়তে হবে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি প্রস্তাব রেখেছেন—
প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোর্ট গঠন। শুনানি ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা।ট্রাইব্যুনালে নাগরিকদের সহায়তার জন্য বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালু করা।
ইউসুফ পাঠান চিঠিতে আরও বলেন, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি। তবে চিঠিতে উল্লিখিত ২৭ থেকে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের জন্য চিহ্নিত হওয়ার দাবি সাংসদের বক্তব্য, যা এই চিঠির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই এই নথিতে উল্লেখ নেই।