বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নতুন সংকটে পড়তে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীর মতোই এখন কৃষ্ণসাগরকে বলা হচ্ছে **“দ্বিতীয় হরমুজ”**। কারণ, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের ফলে কৃষ্ণসাগরে অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
কৃষ্ণসাগর দীর্ঘদিন ধরে শস্য রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ। ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী তেলের রপ্তানিকারক। এই অঞ্চলের অবরোধের ফলে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্য আরও বাড়বে এবং দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য সংকট তীব্র হবে।
জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে কৃষ্ণসাগরের অবরোধ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আফ্রিকার অনেক দেশ ইউক্রেনীয় গমের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধের ফলে সেখানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে, এশিয়ার দেশগুলোতেও আমদানি ব্যয় বাড়বে।
রাজনৈতিকভাবে এই অবরোধ রাশিয়ার কৌশলগত চাপের অংশ। তারা চাইছে পশ্চিমা দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটে ফেলতে। অন্যদিকে, ইউক্রেন ও তার মিত্ররা বলছে, কৃষ্ণসাগরের অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং এটি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কৃষ্ণসাগরের অবরোধ বৈশ্বিক বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করবে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হবে।
কৃষ্ণসাগরের অবরোধ শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি প্রমাণ করছে যে ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি আজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আগামী দিনে এই অবরোধ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার ওপরই বিশ্ব খাদ্য বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
#BlackSea #FoodSecurity #UkraineWar #GlobalCrisis #BreakingNews